হাটহাজারীতে হেফাজত পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৫ জন

0
73
0 Shares

হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশ হেফাজত সংঘর্ষের ঘটনায় মাদ্রাসার চার শিক্ষার্থী সহ ৫ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা গেইট এলাকায় ৫ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ করে হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। শনিবার ২৭শে মার্চ সকালে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে এই দেয়াল নির্মাণ করা হয়। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভা এলাকার ডাকবাংলো চত্বরে ২টি মোটরসাইকেল ও ডাকবাংলোর ভিতরে অগ্নিসংযোগ করেছে আন্দো লনরত শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য গতকাল শুক্রবার জোহরের নামাজের হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলাম একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানায় হামলা করে, পরে থানার পুলিশ গুলি করলে ৩জন শিক্ষার্থী ও একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং ২৫জন গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পরদিন গুরুতর আহত থেকে আরো একজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের সাথে স্থানীয় সাংসদ ও রাজনৈতি ক নেতৃবৃন্দের দফায় দফায় বৈঠক করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও শনিবার দুপুরে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চমেক হাসপাতাল থেকে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পার্শবর্তী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের প্রতি বাদে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়, মিছিল থেকে থানা ভাংচুর ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করেছে আন্দোলনরত মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। সামা জিক যোগাযোগ মধ্যে ফেসবুক খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হেফাজতের সমর্থকরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাথে যোগদিয়ে বাজারে অবস্থান করে পুলিশের উদ্দেশ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শুক্রবার বাজার ও মাদ্রাসার সামনে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চট্টগ্রাম রামগড় মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিলো, বিশেষ করে বাস স্ট্যান্ড হইতে চারিয়া পর্যন্ত। তবে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এদিকে হেফা জত বিরোধী স্লোগান দিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মারমুখী অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ও আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। নিহতরা হলেন, কুমিল্লা জেলার মোহনগঞ্জ এলাকার আব্দুল জব্বারের পুত্র মাওলানা মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম,

নওগাঁ জেলার বদলগাছি এলাকার জসিমউদ্দীনের পুত্র মাওলানা মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, মাদারীপুর এলাকার কাজী জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র কাজী মিরাজুল ইসলাম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ও চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার সৈয়দুল ইসলামের পুত্র মাওলানা মোহাম্মদ ওয়াহিদুল ইসলাম। নিহতদের লাশ শনি বার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানাগেছে।

শাহাবুদ্দিন সাইফ / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here