হাটহাজারীতে জন্ম-মৃত্যু সনদে ইউপি সচিবের জায়গায় বহিরাগত ব্যক্তির স্বাক্ষর

0
105
0 Shares

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একযুগ ধরে ইউপি সচিবের স্বাক্ষর করে আসছে বেলাল নামের একব্যক্তি ও ভুল তথ্য দিয়ে একাধিক জন্ম সনদ নেওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা দিলেন সুমন নামের একব্যক্তি। মঙ্গলবার ২রা ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রুহল আমিন উপজেলার ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সুমন নামের এক ব্যক্তিকে ভুল তথ্য দিয়ে একাধিক জন্ম সনদ নেওয়ার অপরাধে

পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে মুচলেকা নেয় এবং পরিষদের দায়ীদের শোকজ করা হয়। সুমন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রাজা মিয়ার বাড়ীর মোহাম্মদ ফজল করিমের ছেলে। সে ২০১১ সালে নিবন্ধিত জন্ম সনদে ১৯৯০ জন্ম তারিখ ও ২০২০ সালে নিবন্ধিত জন্ম সনদে ১৯৯৭ জন্ম তারিখ উল্লেখ করেন। এদিকে জন্ম মৃত্যু সনদে প্রায় এক যুগ ধরে স্বাক্ষর করেন না ইউপি সচিব। তার জায়গায় স্বাক্ষর দিচ্ছে বেলাল। ইউপি চেয়ারম্যান কাজ করতে বলেছে তাই বেলাল একযুগ ধরে স্বাক্ষর করে আসছে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের স্বাক্ষরের স্থানে।

ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ অনুযায়ী সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতীত ইউনিয়ন পরিষদ অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারেন না। বেলালের নিয়োগের বেলায় অনুমতি নিয়েছে এরকম প্রমান দেখাতে পারেনি। এ বিষয় ইউএনও রুহুল আমিন বলেন, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করে দুইটি বিষয় উদঘাটন করি, প্রথম বিষয়টি হলো সুমন নামের এক ব্যক্তি ভুল তথ্য দিয়ে একই নামের দুইটি জন্ম সনদ নিয়েছেন। একটাতে তার জন্ম ১৯৯৭ সালে আরেকটিতে ১৯৯০ সালে।

সেই জন্য তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং মুচলেকা নেয়। পরিষদের দায়ীদের শো কজ করা হয়। দ্বিতীয় বিষয়টি খুবই ভয়ানক, সেটা হচ্ছে জন্ম মৃত্যু সনদে প্রায় এক যুগ ধরে স্বাক্ষর করেন না ইউপি সচিব। তার জায়গায় স্বাক্ষর করেন বেলাল নামের ইউনিয়ন পরিষদের একজন ক্যাজুয়াল স্টাফ, যিনি সরকারি কর্মচারী না, তাকে কোনো ইউপি চেয়ারম্যান নাকি কাজ করতে বলেছেন, এটাই তার পরিচিতি।সরকারি সনদে তার স্বাক্ষরের এখতিয়ার আছে কিনা প্রশ্নে তিনি জবাব দিতে পারেননি। তাকে পরিষদ নিয়োগ দিয়েছে বলে দাবী করলেও তিনি কোনো নিয়োগ পত্র দেখাতে পারেননি।

ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০০৯ অনুযায়ী সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতীত ইউনিয়ন পরিষদ অতিরিক্ত কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারেন না। এই ব্যক্তির নিয়োগের বেলায় ইউনিয়ন পরিষদ সরকারের অনুমতি নিয়েছে এ রকম প্রমান দেখাতে পারে নাই। ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের স্থলে একজন বাইরের লোক কিভাবে স্বাক্ষর করে এ বিষয়ে সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং ইউএনও আসার আগে এতদিন কেন টের পায় নাই সেটাও বিস্ময়কর! বিষয়টা স্থানীয় সরকার বিভাগ কে অবহিত করা হবে বলেও ইউএনও রুহুল আমিন বলেন। পরিদর্শনকালে প্যানেল চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং ইউপি সচিব উপস্থিত ছিলেন।

মো.সাহাবুদ্দীন সাইফ / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here