সৈয়দপুরে কালভার্ট নির্মানে নানা অনিয়ম দেখার কেউ নেই

0
190
13 Shares

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধিন কালভার্ট নির্মানে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী রড, পাথর ও বালু না দিয়েই ঠিকাদাররা ইচ্ছেমত কাজ করছেন। অনেক জায়গায় ঠিকাদার নিজস্ব তত্বাবধানে কাজ না করিয়ে তৃতীয় কোন ব্যক্তি কাজটি করছে। তাছাড়া তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীও সেগুলো দেখভাল করতে সাইডে না যাওয়ায় তাদের অনুপস্থিতির সুযোগে সংশ্লিষ্ট মিস্ত্রি তথা সাব ঠিকাদাররা চরম দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। তারা খুব দ্রুততার সাথে নামকা ওয়াস্তে কাজ শেষ করছে। এমনকি নির্মাণস্থলে নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্যবোর্ড লাগানো হয়নি। যাতে কেউ দূর্নীতি বা অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। এতে কালভার্টগুলো নির্মাণের মেয়াদকাল পর্যন্ত স্থায়ীত্ব পাবেনা বলে আশংকা করা হচ্ছে।
সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় ১০টি কালভার্ট নির্মান করা হচ্ছে। এর মধ্যে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নে ৪টি, কামারপুকুর ইউনিয়নে ৩টি এবং খাতামধুপুর ইউনিয়নে ১টি। কাশিরাম ইউনিয়নের ২টি জমি জটিলতার কারণে এখনো জায়গা নির্ধারণ না হওয়ায় কাজ শুরু করা হয়নি। এগুলোর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সিডিউল অনুযায়ী ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে ১ কড়াই সিমেন্ট এর সাথে পাথর ৪ কড়াই ও বালু ২ করাই দিয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু দেওয়া হয়েছে ১ কড়াই সিমেন্টের সাথে ১০ থেকে ১২ কড়াই পাথর ও বালু ৬ থেকে ৮ কড়াই। এতে নির্মাণ কাজ অত্যন্ত ভঙ্গুর ও নিম্মমানের করা হয়েছে। রডের ক্ষেত্রে ভার্টিকাল রড ৫ ইঞ্চি পর পর দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৭/৮ ইঞ্চি গ্যাপ রেখে। তার উপর ব্যবহার করা হয়েছে অখ্যাত কোম্পানীর মানহীন রড। যা কালভার্টের স্থায়ীত্ব নষ্ট করার ক্ষেত্রে চরম হুমকি সরুপ।
এই অনিয়ম ও দূর্নীতি তদারক্তির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিষয়গুলো তদারকি না করায় ঠিকাদার তথা মিস্ত্রিরা কোন রকমে কালভার্ট দাড় করিয়ে দিচ্ছে। এতে সিডিউল নির্ধারিত উপকরণের নিয়ম মানা হচ্ছেনা। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সাথে কথা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তথ্যবোর্ড না লাগানোর বিষয়ে তারা বলেন, অফিস থেকে সরবরাহ না করায় তা লাগানো হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল হাসনাত সরকার বলেন, মোট বরাদ্দের তালিকা না দেখলে বলতে পারবোনা কত টাকার কাজ হচ্ছে। আর অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, সিডিউল মেনেই কাজ করা হচ্ছে। কোথাও কোন অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসিম আহমেদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, সিডিউল বহির্ভূতভাবে অনিয়ম করে কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহজাহান আলী মনন/ দৈনিক সংবাদপত্র

13 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ