সিরাজগঞ্জে শহীদ ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মুনসুর পরিবারকে নিয়ে গুজব রটাচ্ছে দুস্কৃতিকারীরা

0
52
0 Shares

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতে বিশেষ করে সিরাজগঞ্জে শহীদ ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মুনসুর আলী পরিবার গণমানুষের উপকারের মধ্য দিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ভোটের মাঠে মানুষও তার প্রতিফলন দেখিয়েছে। কিন্তু ১/১১ এ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি বরাবরই প্রতিক‚লতার দেয়াল তুলেছেন এই পরিবারের বিরুদ্ধে যা এখনো চলমান। এরই অংশ হিসেবেই স¤প্রতি কাজীপুরের সাংসদ এবং উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদ কের মধ্যে বিভাজনের কাল্পনিক তথ্য প্রচার করছেন। নেতারা বলছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কিছু দুস্কৃতিকারীরা এমন গুজব রটাচ্ছে। 

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুনসুর আলীর সন্তান মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১আসনে ১৯৮৬, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ১/১১ তে সেনাসমর্থিত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের নির্যাতনে অসুস্থ হওয়ার কারণে ২০০৮সালে এখানে সাংসদ হন তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়। এই নির্বাচনে দলীয় মনো নয়ন নিয়ে মূলত কাজীপুরের রাজনীতির নতুন পথ উন্মোচন হয়। তখন অনেকের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করেই দল থেকে তানভীর শাকিলের নাম এককভাবে দেন্দ্রে পাঠানো হয়। এতে বিরোধী অবস্থানে কিছু নেতাকর্মী প্রক্যাশ্যে চলে আসেন।

তারাই কার্যত অবৈধভাবে ফায়দা লুটতে সাংসদ প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয় ও কাজীপুর উপজেলা চেয়ার ম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান সিরাজীর মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা কর ছেন। ২০১৪ সালে নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে সাংসদ হন। গত বছরের ১৩ জুন মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যু হয়। এ কারণে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। উপ-নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাংসদ হন তার ছেলে প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাজীপুরে রাজনৈতি সৌহার্দের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে।

সাংসদের অনুপস্থিতিতে কাজীপুরে তার প্রতিনিধিত্ব করেন খলিল। তিনি সাংসদ নাসিমেরও প্রতিনিধি ছিলেন। মূলত ক্যাপ্টেন পরিবারের কাছে খলিল অত্যন্ত বিশ্বস্ত রাজনৈতিক আস্থাভাজন ব্যক্তি  হিসেবে পরিচিত। অথচ তাকে ও জয়কে ঘিরে কুৎসা রটাচ্ছে রাজনীতির লেবাসে দুর্নীতিবাজ বহিস্কৃত নেতারা। এমন গুজব কাজীপুরের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য করা হচ্ছে বলে মনে করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন। তিনি বলেন, ক্যাপ্টেন শহীদ মুনসুর পরিবার কাজীপুরের উন্নয়নের রূপকার। পিতার মৃত্যুর পুর্ব থেকে ই তার ছেলে জয় কাজীপুরের উন্নয়নের হাল ধরেছেন।

তার এই কাজকে মাঠ পর্যায় থেকে সুষ্ঠুভাবে দেখাশোনা করছে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী। তার সাথে জয়ের অন্তত মধুর সম্পর্ক। কিছু সুবিধাবাদী লোকজন তাদের বিরুদ্ধে গোপনে কুৎসা রটাচ্ছে। তাদের কাজ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে। কাজীপুরের রাজনীতিতে সাংসদ জয়-খলিল আলাদা নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিয়ন আ’লীগের সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমীন। বলেন, সাংসদ জয় ও উপেজলা চেয়ারম্যান খলিল আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু খলিল হটাৎ জেগে ওঠা কোনো নেতা নন; মাঠ থেকে উঠে আসা এক জলন্ত ছাত্রনেতা। একজন দক্ষ সংগঠক। তানভীর শাকিল জয় ও খলিল অভিন্ন। এখানে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় অবস্থানে রয়েছে জয়-খলিলের জনপ্রিয়তা। 

১৯৭৬ সাল থেকে রাজনীতির সাথে জড়িত কাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু মানেই ক্যাপটেন মুনসুর আলী। বাংলাদেশ মানেই শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা মানেই মোহাম্মদ নাসিম। সেই অর্থে জয়ও এখন জাতীয় রাজনীতির অংশ। খলিল জয়ের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাদের সম্পর্ক অভিন্ন। ক্যাপ্টেন পরিবার শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রে নয়, এটি কাজীপুরবাসীর জন্য একটি অনুভূতির জায়গা। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিল একজন দক্ষ সং গঠক। তিনি জয়ের রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়। তরুণ নেতৃত্ব জয়ের দেখানো পথে হেঁটে উপ জেলা আ’লীগকে একটি পরিবারের আবদ্ধ করতে পেরেছেন এই নেতা।

কাজীপুরের জনগণ এখন তানভীর শাকিল জয়কে চান। কাজীপুরের জনগণ এখন খলিল সিরাজকে মাঠে চান। ২০১৩ সালের পর থেকে কাজীপুরের দলীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় আসে। এরপর থেকে কিছু দুর্নীতিবাজ ও বহিষ্কৃতরা বিএনপির জামায়াতের সাথে আঁতাত করে কাজীপুরের আওয়ামী রাজনীতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কাজীপুর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়া তের বিচ্ছিন্ন কিছু লোকজন নিয়ে কেউ কেউ ষড়যন্ত্র করলেও তা সফল হয়নি। গত উপনির্বাচন তার যথেষ্ট প্রমাণ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনুভ‚তির অন্যতম প্রাণ পুরুষ ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী পরিবার কাজীপুরের জন্য আশির্বাদ। জয় এই পরিবারের সন্তান এটাও কাজিপুরবাসীর গর্বের বিষয়ও মনে করেন

নিশ্চিন্তপুর ইউনিয় আ’লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন মাস্টার। তিনি বলেন, জয় এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে খলিলের মতো একজন বিশ্বস্ত মানুষ পেয়েছে এটাও কাজিপুরের রাজনীতির জন্য সুন্দর একটি দিক। তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ কাজিপুরবাসীর নয়, এটা বিচ্ছিন্ন কয়েকজন মানুষের মন্তব্য জয় ও খলিলের মধ্যে অসাধারণ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে কাজীপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আসলাম বলেন, একদিন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার ক্লিয়ার হবে। সত্য উদঘাটন হবে। তখন কাজীপুরের নিয়ে কুৎসা রটনাকীরা মুখ লুকাবে অন্ধকারে। 

কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান বলেন, কাজীপুরে যখন নাসিম সাং সদ ছিলেন তখন এলাকায় খলিল সিরাজী তার উন্নয়ম‚লক কর্মকাÐের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এখন জয়ের প্রতি নিধিত্ব করছেন। অথচ হুট করেই কিছু দুষ্কৃতকারী তাদের মধ্যে বিভাজনের স্বপ্ন দেখলেন। তারা আসলে কাজী পুরের উন্নয়ন চান। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতেই বেইমানের দল এমন করছেন। ১/১১ সময়ে যারা দুর্নীতি করে শূন্য থেকে অঢেল সম্পদ, বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছেন তারাই এখন নতুন চক্রান্তে মেতেছেন বলে মন্তব্য করে ছেন। কাজীপুর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন মোঃ বাচ্চু মিয়া বলেন, কাজীপুরের আওয়ামী লীগ একটি সু সংগঠিত শাখা।

প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে জামায়াত-বিএনপি কাঁধে ভর দেওয়া একটি গ্রæপ কাজীপুরের সু-সংগঠিত রাজনীতি নিয়ে উসকানিম‚লক কথাবার্তা বলছেন। অন্ধকার জগতের মিডিয়ায় তারা মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে। এটা কাজী পুরবাসী প্রতিহত করবে। কাজীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহম্মেদ বলেন, বিরোধীদল ও ১/১১ তে কাজীপুরের রাজনীতিতে ত্যাগী নেতাদের পরিচয় মিলেছে। ওই সময়ের প্রমাণিত নেতা খলিল সিরাজী। এই সময়ে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করে খলিল ক্যাপ্টেন পরিবারের জন্য রাজনীতি করে গেছেন। অথচ ওই সময়ে মধু খাওয়া নেতারা বেইমানী করেছেন দলের সাথে। ওইসব বেইমানেরাই এখন রাজনীতির মাঠ ঘোলা করতে চাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা ক্যাপ্টেন পরিবারকে মাইনাস করতে চায়।

তারা খলিল ও জয়ের মধ্যে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। এরপর জয় রাজনীতির মাঠে কিছুটা একা হলে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে চায় সুবিধাবাদী বেইমানের দল। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। নাটুয়ার পাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম সরকার বলেন, খলিল ষড়যন্ত্র করে নয় সাংগাঠনিক দক্ষতা দিয়ে দলীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েছে। তিনি ক্যাপ্টের পরিবারের বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন ব্যক্তি। জনগণের নেতা মাঠের সংগঠক। জয় এবং খলিলের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করতে পারলে গুটি কয়েক জন বিচ্ছিন্ন নেতা লাভবান হবেন। তারাই ম‚লত ভিত্তিহীন সংবাদ রটাচ্ছে। তাদের শক্ত হাতে দমন করার সময় এসেছে। 

কাজীপুর উপজেলা আ’লীগের উপদেষ্টা বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মোসলেম উদ্দিন সরকার বলেন, বাংলাদেশের মধ্যে কাজীপুরের রাজনীতি সৌহার্দপ‚ণ। এখানে অন্য কোনো আলাপের স্থান নেই। কাজীপুর উপজেলা আ’লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক খলিলুর বলেন, কাজীপুরে দুর্নীতিবাজেরা আমাকে নিয়ে রাজনীতি করছে না; তারা ক্যাপ্টেন শহীদ মুনসুর আলী পরিবারের ক্ষতি করতে চায়। কৌশলে তারা সুবিধা নিতে চান। কাজীপুরে আ’লীগ সু-সংগঠিত। এই প্রতিহিংসার যারা জ্বলছেন তারাই গুজব রটাচ্ছে। মিথ্যাচার করছেন। নাসিমের দুর্গ ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তারা রাজনৈতিক ভাবে পায়তারা করছেন। 

কাজীপুর-১ আসনের সাংসদ তানভীর শাকিল জয় এ প্রতিবেদক-কে বলেন, খলিল ও আমাকে নিয়ে কল্পনা প্রসূত গল্প তৈরি করে আমাদের রাজনৈতিক সৌহার্দ নষ্ট করতে চায় কাজীপুরের কয়েকজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা। ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য তারা কাজীপুরের রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এমন অনেকের ষড়যন্ত্র কাছে থেকে দেখেছি। তারপরও তাদের কাছে রেখেছি। সবাইকে নিয়ে আমি কাজ করতে চাই।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here