সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ‘ডোপ টেস্ট’ করা অপরিহার্য বললেন প্রধানমন্ত্রী

0
102
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ‘ডোপ টেস্ট’ করা অপরিহার্য বললেন প্রধানমন্ত্রী
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ‘ডোপ টেস্ট’ করা অপরিহার্য বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ‘ডোপ টেস্ট’ করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ২২ই অক্টোবর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়টা লক্ষ্য রাখতে হবে যারা গাড়ি চালাচ্ছে, তারা মাদক সেবন করে কি-না? তাদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তা পরীক্ষা করা দরকার।

প্রত্যেকটা চালকের জন্য এ পরীক্ষাটা একান্ত ভাবে অপরিহারর্য। এ পরীক্ষাটা করতেই হবে। তিনি বলেন, আরেকটা প্রবণতা আছে আমাদের গাড়ির ড্রাইভারদের, ওভারটেক করা। একটা গাড়ি চলে গেছে এটাকে ওভারটেক করতে হবে। তখন হুঁশ থাকে না, বেহুঁশ হয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে অ্যাকসিডেন্ট করে। এই প্রবণতাটাও বন্ধ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ড্রাইভারদের ভালোভাবে ট্রেনিং দেয়া, লাইসেন্স দেয়ার সময় ভালো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যে সত্যিই ভালো ড্রাইভিং জানে কি না। টাকা দিয়ে যেন কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে না পারে সেটা দেখতে হবে। যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ির ফিটনেস দরকার, সে গুলো বিশেষ ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ও ড্রাইভারদের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। প্রাইভেট সেক্টর ও সরকারি সেক্টর সবাইকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রাফিক আইন মেনে চলা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। চালকদের পাশাপাশি পথচারীদের কে ও সচেতন থাকতে হবে। জনগনের সচেতনতার খুব অভাব। বারবার বলছি এখনো বলছি, স্কুল জীবনই ছোট বাচ্চাদের থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জায়গায় এই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া, সচেতন করা প্রয়োজন। প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত সব জায়গায় ওই ট্রাফিক রুলের পোস্টার লাগিয়ে রাখা, যেন মানুষ সচেতন হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন আমি বারবার জনগণকে সচেতন করেছি, এখন আবারও বলবো, কোনো অ্যাকসিডেন্ট হলে, কেউ ড্রাইভারের গায়ে হাত দেবেন না, কেউ গাড়ি আক্রমণ করবেন না। বরং যে পড়ে গেছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা নিন। আমাদের পুলিশের সার্ভিস এখন খুবই ভালো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ্যাকসিডেন্ট হলে যদি ড্রাইভারের দোষ হয় তাহলে আইন আছে।

আইন তার ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কেউ আইন নিজ হাতে তুলে নেবেন না। এ আইন হাতে তুলে নেয়ার কারণে অনেক মানুষ কিন্তু মারা যায়। কারণ ড্রাইভার সাহস পায় না গাড়িটা থামিয়ে ওই লোকটাকে উদ্ধার করতে। তার ভয় হয় সে যদি গাড়ি থামাতে চায় বা সেই লোকটাকে উদ্ধার করতে চায় তাহলে সে পাবলিকের হাতে মার খাবে। এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমাদের যারা নিরাপদ সড়ক নিয়ে আন্দোলন করে,

তাদের আমি অনুরোধ করব, এটা একটু ব্যাপক ভাবে প্রচার করেন। বিচারের জন্য তো আইন আছে আদালত আছে। সেখানে বিচার হবে। কাজেই কেউ আপনারা নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না। দুর্ঘটনার জন্য শুধু গাড়ি চালকদের দোষ না দিয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ড্রাইভারদের কে দোষ দিলে হবে না, আমাদের পথচারীদেরও সচেতন থাকতে হবে। যত্রতত্র যেখানে সেখানে রাস্তা পারাপার হওয়া, এটা বন্ধ করতে হবে এবং ট্রাফিক আইন সবাইকে মেনে চলতে হবে। 

জান্নাত / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here