মাদ্রাসা ছাত্র স্বাধীন হত্যা মামলা ৫ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি

0
53
0 Shares

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেলতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্র শেখ স্বাধীন (৯) হত্যা মামলা ৫মাসে ও আলোর মুখ দেখেনি বলে হতাশ ভুক্তভোগী স্বাধীন পরিবার। তদন্ত কর্মকর্তা বলছে তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মাদ্রাসা ছাত্র স্বাধীনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটি বন্ধ আছে এবং মাদ্রাসার মুহতামিম শহিদুল ইসলাম গা-ঢাকা দিয়েছে। গত ১৬ই জানুয়ারী সন্ধা ৭টায় উপজেলার কিচক ইউনিয়নের বেলতলী হাফেজিয়া মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের ছাত্র শেখ স্বাধীন কে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

মাদ্রাসার সংলগ্ন গাংনই নদীর দক্ষিণ তীরে মাদ্রাসা সীমানা প্রাচীরের পার্শ্বে ইউক্যালিপটাস গাছের নিচে থেকে ১৭ই জানুয়ারী সকালে স্বাধীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে নিহত স্বাধীনের বাবা শাহ আলম শেখ। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বভার দেওয়া হয় শিব গঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামকে। সে প্রায় ২মাস মামলাটি তদন্ত করে কোন ক্লু উদঘাটন করতে পাওয়ায়। গত ১৪ই মার্চ বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি ক্রাইম ইনভেষ্টিগেশন ডিপাট মের্ন্ট (সিআইডি) বগুড়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।

স্বাধীন হত্যা মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক ফুয়াদ রুহানি এ প্রতিবেদক-কে বলেন, প্রায় ৩মাস হলো মামলাটি সিআইডিতে এসেছে। আমরা গুরুত্বসহ হত্য রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি। প্রায় ১০জনের কাছ থেকে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। নিহত স্বাধীনের বাবা শাহ আলম শেখ কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদক-কে বলেন, প্রায় ৫মাস অতিবাহিত হয়ে গেল আজও আমার ছেলে হত্যার বিচার পাইনি। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন এসেছে, আশা করি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমার ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের কাঠ গড়ায় দার করবে।

তিনি আরও বলেন, থানায় এজাহার করার সময় মুহতামিম শহিদুল ইসলামসহ মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদ ক ও কোষাধ্যক্ষ এজাহারে নামে উল্লেখ করতে চাইলে ওসি সাহেব আমাকে বলেন, আপনি পরেও তাদের নাম দিতে পারবেন এ কারনেই অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করতে হয়েছিল। উল্লেখ্য ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজ শেষে আমার ছেলে মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের সাথে মক্তবে পরছিলো। মুহতামিম শহিদুলের অনুমতি নিয়ে আমার ছেলে মাদ্রাসার টয়লেটে যাওয়ার পরপরই মুহতামিম শহিদুলও বের হয়ে যায়।

এর প্রায় ১৫মিনিট পরে মুহতামিম শহিদুল মাদ্রাসায় ফেরত আসলেও আমার ছেলে আর ফেরেনি। ঐ দিন সন্ধায় মাদ্রাসার কাজের বুয়া রহিমা রান্না করার জন্য মাদ্রাসায় এসেছিলো এবং ঐ মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক মোঃ গাজীউল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ বুলু মিয়া রাত ১০টা পর্যন্ত মাদ্রাসায় অবস্থান করছিল।

জিএম মিজান

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here