ভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও মালামাল ময়লায় ফেলে দিলেন বাড়িওয়ালা

0
161
ভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও মালামাল ময়লায় ফেলে দিলেন বাড়িওয়ালা
ভাড়া দিতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও মালামাল ময়লায় ফেলে দিলেন বাড়িওয়ালা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ মহামারী করোনার এই দুঃসময়ে মানবিক হওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন মেস থাকা শিক্ষার্থী ছাত্রদের সঙ্গে কিছু কিছু বাড়িওয়ালারা অমানবিক আচরণ করছেন। এদের কেউ কেউ ভাড়া আদায়ে অনড় আবার কেউ কেউ ছাত্রদের মালপত্র ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছেন। বাড়ি ভাড়া সময় মতো না পেয়ে সম্প্রতি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রদের সার্টিফিকেট গুলো বাড়িওয়ালা ফেলে দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়ে আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে ধানমন্ডির একটি মেসে থাকা অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগের বেশিরভাগই উঠেছে ঢাকার কিছু বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই চলে যান তাদের গ্রামের বাড়িতে। ফলে ভাড়া বকেয়া পড়ায় মেস মালিকদের কেউ কেউ এমন অমানবিক আচরণ করছেন। সম্প্রতি বাড়ি থেকে ধানমন্ডির মেসে ফিরে কয়েকজন ছাত্র দেখতে পান তাদের কক্ষের মাল পত্র বাইরে ফেলে দিয়েছেন মালিক। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সনদও ছিঁড়ে ফেলা এবং নিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা।

এদিকে এই ঘটনায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একটি মেসের পরিচালককে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। শিক্ষার্থীরা হঠাৎ খবর পেয়ে ঢাকায় ফিরে দেখেন তাদের বই খাতা, জামাকাপড় কিছুই নেই। সার্টিফিকেট গুলোও নেই। দু-তিন মাসের ভাড়া বকেয়া তাই বাড়িওয়ালা সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে তুলে দেন শিক্ষার্থীদের মালামাল ও শিক্ষা সনদ। আবার কারো মালামাল রাখা হয়েছে গাড়ির গ্যারেজে। এসব দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এসব শিক্ষার্থীরা।

পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা আমলে নিয়ে মেসের পরিচালককে গ্রেপ্তার করে। মালামাল ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে মেস পরিচালক বলেন, দুই মাস যখন ভাড়া পাইনি, তখন আমরা এসব করেছি। কাঁদতে কাঁদতে এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা এমন অমানুষ হতে পারে জানা ছিল না। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমার জেএসসির সার্টিফিকেট, এসএসসির সার্টিফিকেট একটা ডিপ্লোমার সার্টিফিকেট নেই।

আরেকজনের অভিযোগ, রুমের একজনের ডেস্কটপ, অন্য একজনের ল্যাপটপ সহ ট্রাঙ্কের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল তারা এসে আর পাননি। নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দেওয়ার পর সেটা গ্রহণ করে মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের হারিয়ে যাওয়া সনদ সহ জরুরী কাগজপত্র পেতে সর্বোচ্চ সহায়তা করবে পুলিশ।

জান্নাত / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here