বগুড়ায় স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

0
36
0 Shares

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুরে স্ত্রী-সন্তান ও পুত্রবধ‚কে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ীর দরজা বন্ধ করে বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শনিবার বেলা ১২টায় পৌরশহরের ৯নং ওয়ার্ডের খন্দকারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শেরপুর পৌর শহরে র খন্দকারপাড়া এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম বিগত চার থেকে পাঁচ বছর পূর্বে বরিশালে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে প্রথম স্ত্রী শাহানাজ পারভীনকে

কোনো ভরণ পোষন না দিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার বিভিন্ন পাঁয়তারা করতে থাকে। সেই সাথে জীবন নাশের হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখে। এনিয়ে পারিবারিক কলহ চরম আকার ধারণ করে। এরই জেরধরে শনিবার বেলা ৯টায় প্রথমে স্ত্রী শাহনাজ পারভীন, ছেলে আবু নোমান ও ছেলের বউ মুক্তা আক্তারকে মারপিট করতে থাকে এবং বাড়ী-ঘরে ভাঙচুর করতে থাকে। এ সময় তাঁরা জীবন রক্ষার্থে জরুরী সেবা ৯৯৯-কল দেয়। এরপর শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধারসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে চলে যান।

কিন্তু এরপরও পাষণ্ড স্বামী নজরুল ইসলাম থেমে যাননি। সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বেলা ১২টায় নজরুল ইসলাম বাড়ীর দরজা বন্ধ করে দিয়ে স্ত্রী-ছেলে পুত্রবধূকে হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় বাড়ীতে। পরে তাঁদের চিৎকারে স্থানীয়রা বাহির থেকে আগুন জ্বলতে দেখে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে সংবাদ দেয় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী নজরুল ইসলামে ছেলে আবু নোমার অভিযোগ করে এ প্রতিবেদক-কে বলেন,

আমাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ীর দরজা বন্ধ করে দিয়ে তার বাবা নজরুল ইসলাম আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। পরে তাদের চিৎকারে বাড়ীর আশপাশের লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আমাদেরকে উদ্ধার করেছে। স্ত্রী শাহানাজ পারভীন এ প্রতিবেদক-কে বলেন, দ্বিতীয় দিয়ের পর থেকে আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে জীবননাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল স্বামী নজরুল ইসলাম। সেইসঙ্গে বাড়ী থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ও বিভিন্ন চেষ্টা চালায়। কিন্তু স্বামীর বসতভিটা ছেড়ে না যাওয়ার কারণেই আমাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাহির থেকে বাড়ীর দরজা বন্ধ করে দিয়ে বাড়ীতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদক-কে বলেন, জরুরী সেবা ৯৯৯-থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারি খন্দকারপাড়ায় একটি বাড়ীতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। দ্রুত  ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আমরা ঘটনাস্থল থেকে আসার পর সেখানে আবার বাড়ীর দরজা বন্ধ করে আগুন লেগে দেওয়া হয়েছে বলে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপের্ক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জিএম মিজান / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here