বগুড়ায় সেই পোড়া লাশের হত্যা রহস্য উদঘটন নেপথ্যে পরকীয়া

0
212
ফাইল ছবি
0 Shares

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ফসলের মাঠ থেকে উদ্ধার আগুনে পোড়ানো লাশের পরিচয় নিশ্চিত ও হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে নিহত সেলিম প্রামানিক (৩২) দুপচাঁচিয়া উপজেলার খিদির পাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে। সেলিম রং মিস্ত্রির কাজ করতো। এই হত্যাকান্ডে নিহত সেলিমের পরকীয়া প্রেমিকা রূপালী (২৫) ও তার বাবা আবদুর রহমানকে (৫০) গ্রেফতারও করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। স্বামীর কাছে নিজেদের অন্তরঙ্গ ভিডিও পাঠিয়ে দেয়ায় প্রেমিক সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে রূপালী। গত বুধবার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কোল গ্রাম এলাকায় আগুনে পোড়ানো গলাকাটা একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে লাশের পরিচয় জানা না গেলেও পরদিন নিহতের বাবা কফির উদ্দিন লাশটি তার ছেলে সেলিমের বলে সনাক্ত করেন। শনিবার দুপুর ২টায় পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা (বিপিএম বার) সংবাদ সন্মেলনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসীর স্ত্রী রূপালী ও সেলিম দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমে যুক্ত। সেলিম তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে বেশ কিছুদিন ধরে বিয়ের জন্য রূপালীকে চাপ দিতে থাকে। রূপালী এতে রাজি না হওয়ায় সেলিম তার মোবাইলে থাকা ভিডিও রূপালীর সৌদিআরব প্রবাসী স্বামীর কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেমিক সেলিমকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় রুপালী। ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া রূপালী ও তার বাবার স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ সুপার আরও জানান, সেলিমকে খুন করতে রূপালী বিয়ের কথা বলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে কোল গ্রাম এলাকায় ডেকে নেয়। আগে থেকেই সেখানে রূপালীর বাবা আববদুর রহমান ও ৩/৪ জন অবস্থান করছিলো। রূপালী তাদের হাতে সেলিমকে তুলে দিলে তারা গলাকেটে হত্যা করে তাকে। পরিচয় লুকাতে মোবাইলফোনসহ সেলিমের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেয় তারা। হত্যার পর ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য তারা লাশের পাশে ৬টি কনডমও রেখে যায়। পরে ৫ তারিখ সন্ধ্যায় দাত এবং আংশিক পাঞ্জাবির অংশ দেখে দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন সেলিমের বাবা। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হবে। এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। উক্ত সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আছলাম আলী (পিপিএম)

জিএম মিজান / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ