বগুড়ায় ব্রিটিশ ধাতব মুদ্রা তৈরী চক্রের এক সদস্য গ্রেফতার

0
53
বিজ্ঞাপন

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশে একটি প্রতারক চক্র পুরাতন ব্রিটিশ ধাতব মুদ্রা বা কয়েন দ্বারা বগুড়া সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার নিরীহ মানুষদের প্রতারিত করে আসছে। এই প্রতারক চক্র নিরীহ মানুষদের মাঝে অপপ্রচার করে বলে যে, এই ধাতব মুদ্রা যদি জাহাজে রাখা হয় তাহলে জাহাজ পানিতে ডুবে না, এটা দ্বারা বিমানকে নামি য়ে আনা যায়, যত বেশি এই মুদ্রা পানিতে ভেসে থাকবে তত দাম হবে এবং এসব নাসার স্যাটালাইটের কাজে লাগে। এ নেশায় বগুড়া সহ দেশের অনেক মানুষের পকেট কেটেছে এই প্রতারক চক্র।

অনেক মানুষ এই প্রতারক চক্রের লোভে পড়ে পথের ফকির হয়েছে। পরে টাকা উশুলের ধান্দায় তারাও নেমে ছে একই পথে। নেশা একটাই যদি ধাতব মুদ্রা পাওয়া যায়। ঘটনাটি র‌্যাব-১২, বগুড়া ক্যাম্পের গোয়েন্দা দলের নজরে আসে এবং নকল ধাতব মুদ্রা তৈরী প্রতারক চক্রকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা চালায় এবং শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় বগুড়া সদরে শাপলা সুপার মার্কেট থেকে এক প্রতারক চক্রের সদস্য মোঃ শাহীন ইমরান আলী (৫০)কে কিছু ধাতব মুদ্রাসহ গ্রেফতার করে।

বিজ্ঞাপন

গ্রেফতারকৃত মোঃ শাহীন ইমরান আলী বগুড়া সদরের লতিফপুর বিহারী কলোনী এলাকার মৃত আঃ ছাত্তারের ছেলে। র‌্যাব-১২ ক্যাম্প সুত্রে জানা যায়, র‌্যাবের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ব্রিটিশ ধাতব মুদ্রা প্রতারক চক্রের সদস্য মোঃ শাহীন ইমরান আলীকে ব্রিটিশ ধাতব মুদ্রা, মুদ্রা তৈরীর ছাচ, মোবাইল এবং নগদ ৩০,৩০০/- টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতারক শাহীন ও তার চক্রের প্রধান টার্গেট ছিল ধনী ও সাধারণ জনগণ। তারা বলতো, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ এই মুদ্রা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে বিভিন্ন সীমানা পিলারের মধ্যে পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক মার্কেটে এই ম্যাগনেটিক মুদ্রার মূল্য কোটি কোটি টাকা”। আমেরিকার নাসা এই মুদ্রার প্রধান ক্রেতা। আসামী কম মূল্যে এই কয়েন সংগ্রহ করছে। এভাবে এই চক্র বিভিন্ন মানুষকে নিঃস্ব করছে বলে জানা যায়। আসামী মুদ্রাগুলো বিভিন্ন ভাঙ্গাড়ির দোকান থেকে ক্রয় করে কেমিক্যাল দিয়ে বিভিন্ন ছাপ দিয়ে রোদে শুকানোর পর আগুনে পুড়িয়ে এসিড দিয়ে নিমজ্জিত রেখে ধাতব মুদ্রা তৈরী করে। উদ্ধারকৃত ধাতব মুদ্রার মূল্যে কোটি কোটি টাকা বলে সে প্রতারণা করত। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত ধাতব মুদ্রা তৈরী করে এবং প্রতারক চক্রের মাধ্যমে এই মুদ্রা জনসাধারণকে অপপ্রচার করে বিক্রয় করে।

আসামী এলাকায় প্রতারক বলে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে এলাকার জনসাধারণের অনেক অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া সদর থানায় সোপর্দ হয়েছে। র‌্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন, (জি), বিএন এ প্রতিবেদক-কে বলেন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বগুড়া সদর থানায় সোপর্দ হয়েছে।

জিএম মিজান

বিজ্ঞাপন

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here