বগুড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা

0
93
0 Shares

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিবগঞ্জের প্রতিমা শিল্পীরা। আর মাত্র ক’দিন পরেই সনাতন (হিন্দু) ধর্মা লম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা। পূজার প্রায় ২ মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মন্ডপে দূর্গাপূজা উদযাপন করা হবে।

সনাতন (হিন্দু) হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবী দূর্গা এবার দোলনায় আগমণ এবং গজে গমণ করবেন। শিবগঞ্জ উপ জেলায় ৫৩টি পূজামন্ডপে পূজা অর্চনা হবে। উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি ইতিামধ্যে পূজা উদযাপনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভানের কারণে পূজা মন্ডপ গুলোতে সাজসজ্জা করা হবে না। সাদা সিধে ভাবে পূজা উদযাপন করবেন উপজেলার সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায়।

তাই এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে পূজামন্ডপে স্বাস্থ্যা বিধি মেনে পূজার কার্যক্রম করা হবে। উপজেলার পূজা মন্ডপগুলো ঘরে দেখে গেছে, মন্ডপগুলোতে উৎসবের ছোয়া লেগেছে। বিরামহীন ভাবে প্রতিমা তৈরীর কাজ করেছেন প্রতিমা শিল্পীরা। উপজেলার সাদুল্যাপুর গ্রামের মৃত অজিত মহন্তের ছেলে শ্রী হারাধন মহন্ত প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন। ত্রিশ বছর ধরে এ পেশায় আছেন তিনি।

তার বাবা-ঠাকুরদা সকলেই প্রতিমা তৈরীর কাজ করেছেন। এখন তিনি নিজে তৈরী করেন প্রতিমা। করোনা ভাইরাসের কারনে দূর্গা পূজা নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন তিনি। তার পরেও এবার তিনি দশটি মন্ডপ থেকে প্রতিমা তৈরীর অর্ডার পেয়েছেন। এই দশ সেট প্রতিমা তৈরীর কাজে বেশ ব্যস্ত তিনি। দু’জন কারিগর সহকারী হিসাবে তার সাথে কাজ করছেন। দিনরাত কাজ করছেন তারা। আর কয়েকদিন পরেই শারদীয় দূর্গাপূজা। নির্ধারীত সময়ের মধ্যেই তাকে সরবরাহ করতে হবে প্রতিমাগুলো।

তাই সময়মত খাওয়া দাওয়া নেই হারাধনের। তিনি প্রতিটি দূর্গা প্রতিমার সেট বিক্রি করেন ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। উপজেলার সাদুল্যাপুর গ্রামের প্রতিমা শিল্পী শ্রী হারাধন মহন্ত দৈনিক সংবাদপত্র প্রতিবেক-কে বলেন, হামরা খুব কষ্ট করে মাঠির প্রতিমা বানাই। কি করমো আর তো কোন কাম করবের পারিনে তাই বাপ-দাদার পেশা আঁকরে ধরেই আছি। একন হামাগেরে অবস্থাা খুব খারাপ সেডে দেকপের কেউ নাই। তিনি আরও বলেন, প্রতিমা বানানের জন্য ব্যবহৃত এটেল মাটি তাদের গ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাগনা আনা যেত।

এখন সেই মাটি বিভিন্ন জায়গা থেকে টেকা দিয়ে কিনে গাড়ী করে আনতে হয়। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মাটি দিয়ে বানে রোদে শুকে রং করে সেগুলো উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ গুলোতে বেচা হয়। আমার বানান প্রতিমা শিবগঞ্জ উপজেলা, সোনাতলা, গোবিন্দগঞ্জ, ঘোড়াঘাটসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। শিবগঞ্জ উপ জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রাম নারায়ণ কানু দৈনিক সংবাদপত্র প্রতিবেদক কে বলেন,

করোনা ভাইরাসের কারনে এবছর পূজা মন্ডপ গুলোতে সাজসজ্জা ছাড়াই সাদা সিধে ভাবে পূজা উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার সবকটি মন্ডপে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে পূজা উদযাপন করবেন ভক্তরা।

জিএম মিজান / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ