বগুড়ায় ফরিদুল হত্যার রহস্য উন্মোচন গ্রেফতার ৫ জন

0
69

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ইটালী গ্রামে চাঞ্চল্যকর ফরিদুল হত্যা মামলায় ৫ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জমি-জমা বিরোধ এবং টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত দেনা পাওনার কারণে এই হত্যা কাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, নিহতের সৎ শ্যালক ওমর ফারুক (৩৫), চাচা আব্দুর রাজ্জাক (৫৮), ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ (৩০), আপন ছোট ভাই জিয়াউর রহমান জিয়া (৪০) ও তার স্ত্রী শাপলা খাতুন (৩৫)।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম (বার) তার কার্যালয়ে বেলা ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবা দিকদের এসব তথ্য জানান। জেলা পুলিশ সূত্র জানা যায়, ঘটনার দিন ৫ই জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭টায় নিজ বাড়ীতে নৃশংস ভাবে খুন হন রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী মোঃ ফরিদুল ইসলাম (৪৮) সে স্থানীয় ছোনকা বাজারে রড ও সিমেন্ট এর ব্যবসা করতেন। নিহত ফরিদুলের মায়ের জমি-জমা নিয়ে তার অন্যান ভাইদের সাথে বিরোধ ছিল। সে কৌশলে মা ও বোনদের থেকে মূল্যবান জায়গা রেজিস্ট্রি করে নেয়।

ফলে তার ভাইয়েরা তার প্রতি ক্ষীপ্ত হয়। অপর দিকে সৎ শ্যালক ওমর ফারুকের কাছ থেকে সে ৩ লক্ষ টাকার জমি বন্ধক নেয় পাওনা বাবদ। এসব বিষয় নিয়েই তার ছোট ভাই ও সৎ শ্যালক মিলে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। নিহতের স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলে সে বাড়ীতে একাই ছিল। এই সময়কে ঘাতকেরা উপযুক্ত সময় হিসবে বেছে নেয়। হত্যার আগের দিন নিহতের চাচা আসামী জিয়ার বাসায় বৈঠক ডেকে সব পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ৫ তারিখ সন্ধ্যায় আসামীরা ধারালো চাকু সহ ল্যাট্রিনের উপর দিয়ে ভিকটিনের বাসায় প্রবেশ করেন৷

নিহত ফরিদুল তার কৃষি জমিতে কাজ শেষে বাড়ী প্রবেশ করলেই আসামীরা ধারালো চাকু ও বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে ও মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার পরে নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সৎ শ্যালক ওমর ফারুক দুলাভাইকে হত্যার পর মানষিক ভাবে ভেঙে পরে। এরপর সে নিজে বাড়ী থেকে পালিয়ে মানিকগঞ্জ চলে যায়। এবং স্ত্রীকে ফোন করে অপহরণ নাটক সাজায়। পরে শেরপুর থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মানকিগঞ্জ জেলা থেকে তাকে উদ্ধার করে

ব্যাপক জিজ্ঞাসা বাদের এক পর্যায়ে হত্যাকান্ডের সাথে তাদের সম্পৃক্তা স্বীকার করে। পরে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শেরপুর থানা পুলিশ ইটালী গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাকি ৪ আসামীকে নিজ নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। সাংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামী সৎ শ্যালক ওমর ফারুক ও ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ ঘটনায় জড়িত স্বীকার করায় জবানবন্দি নিতে আজ আদালতে প্রেরণ করা হবে ও বাকি ৩ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হায়দার চৌধুরী (প্রশাসন), আব্দুর রশিদ অপরাধ মোতাহার হোসেন (ডিএসবি), গাজীউর রহমান শেরপুর সার্কেল, ফয়সাল মাহমুদ মিডিয়া ও সদর সার্কেল, শের পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহীদুল ইসলাম, সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর ও ডিবির ওসি আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।

জিএম মিজান / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here