বগুড়ায় ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় ৭৩ কেজি ওজনের বাঘইর মাছ

0
274
ফাইল ছবি

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে দেড়শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা জমে উঠেছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা রাতভর চলবে। এদিকে পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে শুধুমাত্র নারীদের কেনাকাটার জন্য এখানে বসবে ‘বউমেলা’ তবে এই মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল বড় বড় আকারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। তার মধ্যে বাঘইর মাছ অন্যতম। এবার মেলায় সবচেয়ে বড় ৭৩ কেজি ওজনের বাঘাইর মাছ এনেছেন মহিষাবান এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বিপ্লব। তিনি ওই মাছের দাম কেজিতে ১৮০০ টাকা দাম হাকিয়েছেন। তবে ক্রেতারা এককভাবে না কিনলেও কেজি প্রতি দরে ১৫০০ টাকা করে কেনার জন্য দামাদামি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়াও মিষ্টি, ফার্নিচার, তৈজসপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে। মেলাতে মিষ্টির দোকানের চমক ছিল ফেলু মোহন্তের ৮ কেজি ওজনের মাছ পিঠা। যার প্রতি কেজি মূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা কেজি। স্থানীয়রা বলেন, গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের গোলাবাড়ি বন্দর এলাকায় গাড়িদহ নদী তীরে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে একদিনের ‘পোড়াদহ’ মেলা বসে প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বা ফাল্গুনের প্রথম বুধবারে শুরু হওয়া মেলাকে সামনে রেখে আশপাশের প্রতিটি বাড়ি আত্মীয়-স্বজনে ভরে যায়। ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে দাওয়াত না দিলেও পোড়াদহ মেলায় দাওয়াত দেওয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মেলায় গিয়ে দেখা যায়, ১০ কেজি ওজনের বোয়াল ২ হাজার টাকা কেজি দরে, ১৫ কেজি ওজনের চিতল ২ হাজার টাকা কেজি দরে, ২০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ দেড় হাজার টাকা কেজি দরে, রুই ৩ থেকে ৫ শত টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মেলায় কাঠ ও স্টিলের আসবাবপত্র, কুলবড়ই, নানা ধরনের আচার, গরু, মহিষ ও খাসির গোশত, পেঁয়াজ, মরিচসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তোলা হয়। বিনোদনের জন্য মেলায় ছিল পুতুল নাচ, মোটরসাইকেল খেলা, যাদুখেলা ও নাগরদোলা। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস (৫৮) বলেন, মেলাকে ঘিরে গোটা উপজেলার প্রতি বাড়ী বাড়ী এখন উৎসবের আমেজ। বিশেষ করে জামাই-মেয়েদের দাওয়াত করে আনা হয়েছে। আজ জামাইরা মেলায় যান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বউমেলায় মেয়েরা যাবে। এটা অনেক বছরের রীতি। গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাবের রেজা আহম্মেদ এ প্রতিবেদক-কে বলেন, প্রতিবারের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

জিএম মিজান / দৈনিক সংবাদপত্র  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here