ফটিকছড়ির এক যুবকের সাইকেলে করে ২২দিনে ৬৪ জেলায় ভ্রমণ

0
158
ফাইল ছবি
5 Shares

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ সাইকেল চালানো যেন বর্তমানে ফ্যাশন হয়ে গেছে। সাইকেল চালানোতে যেমন রয়েছে শারীরিক মানসিক শস্তি তেমনি আছে প্রাকৃতিক উপকারীতাও। বর্তমানে যুবক-যুবতী প্রায় সবাই সাইকেল চালানোয় মনোনিবেশ করেছে। সেইসাথে গড়ে উঠেছে অনেক সাইকেলিং গ্রুপও। এমনি একজন গ্রুপ মেম্বার কম সময়ে জয় করেছে বাংলাদেশের ৬৪জেলা। চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি উপজেলার পাট্টিলারকুল গ্রামের মোহাম্মদ শফি’র পুত্র মোহাম্মদ আজমীর(২২), সে “বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই” এ স্লোগানকে সামনে রেখে মানুষকে সচেতন করার মধ্য দিয়ে সাইকেলে চড়ে ৬৪জেলা ভ্রমণ করে।

আজমীর বলেন, আমি মূলত চট্টগ্রামের অন্যতম সাইক্লিং গ্রুপ “দ্বি-চক্রযান” এর সদস্য, এ গ্রুপের মাধ্যমেই আমি সাইকেল ভ্রমণ শিখি। ভ্রমণের ব্যাপারে সে জানায়, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা, ৬৩জেলা ভ্রমণ শেষ করে ৬৪তম জেলা কক্সবাজারে ঢুকার সময় পর্যন্ত মোট সময় লেগেছিলো ২২ দিন ৮ ঘন্টা ১৩ মিনিট। আমার মূল লক্ষ্য ছিলো দ্রুততম সময়ে দেশ ভ্রমণের পাশাপাশি “বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই” এ স্লোগানকে সামনে রেখে মানুষকে সচেতন করা। বিশেষ করে আমরা যখন কোথাও থামতাম আমাদের পোশাক, মাথায় হেলমেট, হাতে গ্লাভস ইত্যাদি দেখে লোক জমায়েত হতো। আমি সেটাকে কাজে লাগাতাম।

ছোট পরিসরে সকলের মাঝে বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরী শিক্ষা কতটা সহায়ক সে সম্পর্কিত ম্যাসেজ দিয়ে দিতাম। আলহামদুলিল্লাহ সকল স্থানেই সকল মানুষই আমার সাথে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং তারা নিজেদের সন্তানদের পড়ালেখার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ্য করে তুলতে সাহায্য করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। পুরো ভ্রমণে শুধুমাত্র আমার ব্যাক্তিগত খরচ সম্পূর্ণভাবে বহন করেছে চট্টগ্রামের জামালখানস্থ “হাসান বিল্ডার্স” নামের একটি রিয়্যাল স্টেট কোম্পানী। আর পুরো রাইডে আমার সাথি ছিলো আমার বন্ধু বোয়ালখালীর ‘শাহরিয়ার ইমন’। সে বলে, আমরা চট্টগ্রাম থেকে ১ নভেম্বর ২০১৯ এ রাইড শুরু করে আগে থেকে তৈরি করা ম্যাপ অনুসরণ করে মোট ৬৩ টি জেলা চালিয়ে ২৩ নভেম্বর ৬৪ তম জেলা কক্সবাজার যাওয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ রাইড শেষ করি।

এখন পর্যন্ত ক্রস কান্ট্রি জিওমেট্রির সাইকেলে এটাই সবচেয়ে কম সময়ে চালিয়ে আসা রেকর্ড। মানসিক প্রস্ততি, প্রশিক্ষণ এবং উদ্যমের ফল’ই হলো কোন প্রকার শারিরিক ক্ষতিসাধন ব্যতীত ৪০০০ কি,মি পথ সাইকেল চালিয়ে শেষ করা। সাইকেল ভ্রমণে দিকনির্দেশনা দিতে সে বলে, নিরাপত্তা নিয়ে কোন ছাড় নয়। ভ্রমণ হোক নিরাপদ। এ লক্ষ্যে নতুন নতুন ভ্রমণ পিপাসু সাইক্লিস্ট হয়ে উঠতে সাহায্য করা নিয়ে কাজ করাই হলো আমার আগামী দিনের লক্ষ্য। এছাড়া আমি কিছুদিন হলো ক্লাইম্বিংয়ের সাথে যুক্ত হয়েছি।সে লক্ষ্যে বাংলাদেশের একমাত্র ক্লাইম্বিং রেইস “ক্লাইম্বেথন বাংলাদেশ সিজন ৩” এ অংশগ্রহণ করে ৩য় স্থান অর্জন করেছি। আজমীর স্বপ্ন দেখছে একদিন সে এভারেস্টের চুড়ায় নিজেকে দেখবে সে লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। 

মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন / দৈনিক সংবাদপত্র 

5 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ