পুণশ্চ’কে ঘিরেই রবীন্দ্রপ্রেমী অণিমা’র যতো ভাবনা

0
30
ছবি- মোহসিন কাওছার
0 Shares

অণিমা রায়, বাংলাদেশে এই প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী। আজ থেকে চার বছর আগে নিজের কর্মস্থল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিজের বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যখন শান্তি নিকেতনে যান, তখনই অণিমা’র মনে মনে স্বপ্ন দেখা শুরু সাদা আর সবুজের সমন্বয়ে নিজের মনের মতো একটা কিছু করা চাই-ই চাই তার। সেই স্বপ্নকে রূপ দিতে পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১২ মে সাভারের বিরুলিয়ার শ্যামপুর আবাসন বটতলার গোলাপগ্রামে নির্মাণ শুরু করেন ‘পুনশ্চ: নৈশব্দের আনন্দঘর’ নামক হলি ডে হোম’র। স্বপ্ন ছিলো বাবা মাকে সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিত এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবেন।

কিন্তু গেলো বছরের ২৯ ডিসেম্বর অণিমা’র বাবা মারা যাবার কারণে এর যাত্রা শুরু একটু পিছিয়ে যায়। নিজের মা, বোন, স্বামী তানভীরের তারেকের মা এবং খুব কাছের কিছু মানুষদের নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু করেন, অণিমার ভাষ্যমতে যাকে বলা হয় গৃহ প্রবেশ। পুণশ্চ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও বা ফেব্রæয়ারি থেকেই ‘পুনশ্চ’তে মানুষের যাওয়া শুরু হয়েছে।

কিন্তু অণিমা জানান, এখনো অনেক কাজ বাকী। প্রতিনিয়তই তিনি এই নৈশব্দের আনন্দঘর’-এ নতুন কিছু না কিছু সংযোজন করছেন। কারণ এই পুণশ্চ’কে ঘিরেই এখন তার যতো ভাবনা, যতো ব্যস্ততা। জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, গান গাওয়া আর গান শেখার প্রতিষ্ঠান সুরবিহার’ থেকে যতোটুকই অর্থ উপার্জন করছেন তার প্রায় সবকুটুকই তিনি কাজে লাগাচ্ছেন পুণশ্চতেই।

অণিমা রায় বলেন, খুব বেশি সত্যি কথা যদি বলতে হয় পুণশ্চ’তে আরো নতুন নতুন কিছু সংযোজনের জন্য আমি এতোটাই ব্যাকুল থাকি যে আমার নিজের জন্য এখন আর শাড়ি কিনতে ইচ্ছে হয়না, বরং এই হলি ডে হোম পুনশ্চ’র জন্য নতুন কিছু ক্রয় করি, যা এর সৌন্দর্য্যকে আরো বৃদ্ধি করবে। পুনশ্চ এমনই একটি জায়গা আগত অতিথিরা যে যেখাইে বসুন না কেন সেখান থেকেই সবুজ আর সবুজের সমারোহ দেখতে পাবেন, আকাশ দেখতে পাবেন। আমি এমনভাবে পুনশ্চকে সাজিয়েছি বিশেষত থাকার জায়গাটুকু বাদে বাইরে যা কিছু তার কোনকিছু যেন সবুজকে ছাড়িয়ে চোখে না পড়ে, এমনভাবেই সাজিয়েছি। যারা এখানে আসছেন তাদের অভিমতও নিচ্ছি, কী হলে আরো পরিপূর্ণ হতে পারে। আর অবশ্যই তানভীর আমাকে সবসময়ই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। পুনশ্চ’তে যারা আসেন তারা পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়েই যেন আবারো এখানে আসার বাসনা নিয়ে বাসায় ফিরেন সেই চেষ্টাটাই থাকে আমাদের।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসার ছাদে অণিমা’র নিজস্ব একটি বাগান ছিলো। তার ইচ্ছে ছিলো তার সন্তান বড় হবে সবুজ দেখতে দেখতে। কিন্তু সেখানে বাধাগ্রস্ত হন তিনি। প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় অণিমা সবুজের সেই স্বাদটা না নিতে পারলেও পুণশ্চ’ অনেকখানিই সেই দু:খবোধ গুছিয়ে দিয়েছে। এদিকে অণিমা রায় করোনার এই কালে অনলাইনে নিয়মিত ক্লাশ নিচ্ছেন। সর্বশেষ অণিমা গেলো সপ্তাহেই চ্যানেল আই, মাছরাঙ্গায় রবীন্দ্রনাথের বর্ষা আর প্রেমের গান গেয়ে শোনান শ্রোতা দর্শককে।

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here