পাইকগাছায় চিংড়ী ঘের এর কারণে অধিকাংশ সড়কের বেহাল অবস্থা

0
182
0 Shares

পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় লবণ পানির মাছের ঘের বেঁড়িবাঁধ হিসেবে সরকারি রাস্তা ব্যবহার করায় উপজেলার প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ শতাধিক পাকা ও ইটের সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। মাটির রাস্তা গুলো ভেঙ্গে সরু হয়ে গেছে। এসব সড়কে যান চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর এ কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষকে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাইকগাছা – বেতবুনিয়া সড়ক, পাইকগাছা থেকে খড়িয়া হয়ে গড়ইখালী সড়ক। এছাড়া লস্কর, সোলাদানা, চাঁদখালী, গড়ইখালী, লতা, দেলুটিসহ প্রত্যেকটি ইউনিয়ানের সাথে চলাচলের অধিকাংশ সকল রাস্তা ঘের সংশ্লিষ্ট বেঁড়িবাঁধ হওয়ায় এসব সড়কে যান চলাচল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ফলে অধিকাংশ জনপদের রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়ার উপক্রম। ঘের ব্যবসায়ীরা সরকারি রাস্তাগুলো ঘেরের বেঁড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ঘেরের ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে আলাদা বেঁড়িবাঁধ করার নিয়ম থাকলেও তা কেউ মানছে না। এছাড়া সরকারি বদ্ধ নদী, খালের পানি নিষ্কাশন পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছের ঘের করায় এ উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন ধান আবাদ ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি হাজার হাজার হতদরিদ্র পরিবার খাল- বিলে মাছ শিকার করতে পারছে না।
লবণ পানির ঘের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। সরকারি রাস্তা ঘেরের বেঁড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে একসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তখন মানুষকে আরো ভোগান্তির শিকার হতে হবে। প্রতি বছর সরকার জণসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সড়ক উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। প্রধান সড়কে বা চলাচলের রাস্তা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে লীজ ঘের এর ফাঁড়ি বা বাঁধ থাকার নিয়ম থাকলেও কিছু ঘের মালিক এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেদারছে ঘের এ জোয়ারের পানি তুলে ব্যবসা করে যাচ্ছে। ফলে পানির ঢেউ এসকল রাস্তা ভেঙ্গে ইটের ছলিং উঠে কোথাও একাকার, কোথাও পিচের রাস্তায় ফাটল, কোথাও অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় যাতয়াতের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।স্কূল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বসাধারণ সময় মত তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে লীজ ঘের এ জোয়ারের পানি তুললে এসব এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। অনেক আধা-পাকা মাটির রাস্তা পানিতে নিমোজ্জিত থাকায় ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষকদের লুঙ্গি অথবা গামছা পরে স্কূলে যাওয়া আসা করতে হয়। অনেক গর্ভবতী মহিলা বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে সময়মত পৌঁছাতে পারে না বলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর আত্মীয়-স্বজনদের অভিযোগ। অথচ প্রতি বছর সড়ক নিমার্ণে এবং সংস্কারের জন্য সরকার সৃজনশীল কর্মসুচিসহ একটি বিরাট অংকের টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকেন। প্রতিকার না করলে সরকারী এসব অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।এদিকে ঘের মালিকরা বড় ধরণের সুযোগ-সুবিধা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, প্রভাবশালী, জোদদার, দালালদের দিয়ে থাকেন বলে এর কোন প্রতিকার মিলছে না বলে – সুধি সমাজ জানান। সুধীসমাজ আরও জানান, প্রভাবশালী, জোতদাররা এ অঞ্চলের নিরীহ মানুষদের চুষে খাচ্ছে, তাদের কাছে সবাই জিম্মি। আপনারা যতই লেখা-লেখি করেন না কেন, এখনও পর্যন্ত প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি আর নেবেও না। কারণ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, অনিয়ম বিরাজমান।
সরজমিনে দেখা যায়, উপকূল ও নদী বেষ্টিত হওয়ায় এলাকার মানুষ ওয়াপদার বেঁড়িবাঁধ চলাচলের রাস্তা হিসাবে অধিকাংশ ব্যবহার করে। এই বেঁড়িবাঁধ একদিকে নদীভাঙ্গণে বহিরাংশ হুমকির শিকার হয় অন্যদিকে লীজ ঘের এর কারণে ভিতরের অংশও ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক জৈনক ব্যক্তি বলেন, ভোটের রাজনীতির মাইর প্যাঁচের কারণে চেয়ারম্যান, মেম্বাররা এ বিষয়ে কিছুই করবে না। মানবধিকার কর্মী এ্যাড. এফএমএ রাজ্জাক বলেন, এর আগে একই বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে উপজেলার সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছে। তার পরেও ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন সাধারণের জিজ্ঞাসা? এলাকাবাসী এ ব্যাপারে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইমদাদুল হক / দৈনিক সংবাদপত্র

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ