পাঁচবিবির ৩শ বছরের প্রাচীনতম মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ

0
29
পাঁচবিবির ৩শ বছরের প্রাচীনতম মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ
পাঁচবিবির ৩শ বছরের প্রাচীনতম মন্দিরটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ
0 Shares

পাঁচবিবি সংবাদদাতাঃ জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাকুরিয়া গ্রামের পার্শ্বে কালের সাক্ষী হয়ে যুগের পর যুগ ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে বট পাকুরে শিকঁঁড়ে মোড়ানের মন্দিরটি। এক সময় অত্র এলাকায় অনেক হিন্দু অধিবাসীসহ জমিদারদের বসবাস থাকলেও ব্রিটিশ শাসনের অত্যাচারে তারা চলে যায় ভারত ভূ-খন্ডে। বর্তমানে দু’ চারটি অতি দরিদ্র হিন্দু পরিবারের বসবাস থাকলেও

মায়া রাণী নামের এক বৃদ্ধা মহিলা পূজা অর্চনার মাধ্যমে মন্দিরটিকে জাগ্রত করে রেখেছে। সরেজমিনে গিয়ে এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে, মন্দিরটি ঠিক কত সালে স্থাপন হয়েছে বা তার সঠিক ইতিহাস জানাতে না পারলেও তাদের পূর্ব পূরুষদের সময় থেকেই মন্দিরটি এভাবে দেখে আসছেন বলে তারা জানান। তারা আরো জানায়, মন্দিরটি এতটাই জাগ্রত (অদৃশ্য শক্তি) যে,

গ্রামের হিন্দু মুসলমান সবাই সম্মান দিয়েই চলেন। ষাটর্ধ্ব আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন “আমাদের বাপ দাদারাও জানেনা মন্দিরটির বয়স কত, শুনেছি সেই সময় বামা কর্তা নামক এক জমিদার ছিলেন, তিনিই এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। যখন ইংরেজদের অত্যাচারে জমিদাররা দেশ ত্যাগ করেন সেই সময় থেকেই মন্দিরটি রয়েছে।
একই এলাকার সত্তোরর্ধ্ব সোলেমান বলেন, জমিদারের শাসন আমলে এই মন্দিরে মহিষ বলী হতো”

“মন্দিরের বয়স প্রায় ৩০০ বছরের অধিক। এত প্রাচীন মন্দির আমার জানামতে উপজেলায় কোথাও নেই। মন্দিরটি খুবই জাগ্রত (অদৃশ্য শক্তি) হওয়ায় হিন্দু মুসলীম যে যেখানেই যাই মন্দিরের ছায়ায় প্রণাম করে যাই।
বর্তমান মন্দিরে পূজা অর্চনাকারী মায়ারানী বলেন, মানুষের দান খয়রাতের টাকা দিয়ে প্রতিদিন সন্ধায় ধুপ প্রদীপ জ্বালিয়ে ভক্তিশ্রোদ্ধা করি।

কথিত আছে যে, মন্দিরটিকে কেউ অবহেলা করলে তার বিপদ অনিবার্য্য। বিপদ মুক্তির জন্য মানত করে রক্ষা পেতে। অবহেলার কারনে কয়েক বছর আগে পাকুরিয়া গ্রামের কাজেম আলী নামক এক ব্যক্তি মন্দির বেষ্টিত গাছের একটি ডাল ভেঙ্গেছিলেন। তার পর সে অসুস্থ্য হয়ে পরে। এক সময় মৃত্যু হয় বলে গ্রামবাসীরা জানান। মন্দিরটি জাগ্রত (অদৃশ্য শক্তি) হওয়ায় দুর-দুরান্ত থেকে লোক জন এসে মানত করে,

পূজা দেন, টাকা পয়সাও দেন। পথচারীরাও যে যার সাধ্যমত টাকা দেন, মানত করেন। প্রাচীনতম মন্দিরটির চারিপাশ ঘিড়ে রয়েছে বট-পাকুরের শিকড়। মন্দিরের ভিতর মেঝে প্লাস্টার থাকলে পিছনের দেয়ালের ইট ভেঙ্গে যাচ্ছে। মন্দিরের সমনের দিকের সামান্য জায়গা সেখানে ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গলে অপরিস্কার।

এমতাবস্থায় পাঁচবিবি উপজেলার সব চাইতে প্রচীনতম পাকুড়িয়া গ্রামের মন্দিরটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

মোঃ বাবুল হোসেন / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here