পাঁচবিবিতে সার সংকট দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ

0
270
ফাইল ছবি

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বোরো মৌসুমের শুরুতে ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট) সার সংকট দেখা দেওয়ায় পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন না কৃষক। অপরদিকে বস্তা প্রতি ১শ থেকে ২৫০টাকা বেশি দিলেই মিলছে সার। ফলে সরকার ডিএপি সারের দাম কমালেও এর সুফল পাচ্ছেন না কৃষক। মৌসুমের শুরুতেই ডিএপি সার না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই অনেকেই টিএসপি (ট্রিপুল সুপার ফসফেট) সার ব্যবহার করছেন।
এতে চলতি ইরি-বোরো আবাদের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক। দাম বেশি নেওয়ার কথা অস্বীকার করে সার ডিলাররা বলেন, সরবরাহ না থাকায় কৃষক সার পাচ্ছেন না। তবে খুচরা ডিলারদের দাবি টিএসপি সার না কিনলে ডিএপি সার দিচ্ছেন না সার ডিলাররা।

জানা যায়, সরকার বোরো মৌসুমের শুরুতেই ডিএপি সারের দাম ডিলার পর্যায়ে কেজিতে ১৪ টাকা ও কৃষক পর্যায়ে ১৬ টাকা করায় কৃষকরা খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে ডিএপি সার না পাওয়ায় বেশি দামে টিএসপি সার কেনায় আর্থিক ক্ষতির স্বীকার হচ্ছেন কৃষক। উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএপি সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৮ ভাগ থাকায় কৃষক ডিএপি সার ব্যবহার করেন। আর এ জন্য ফলনও ভালো হয়।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি মাসের বরাদ্দকৃত ৩৯৫ মেট্রিক টন ডিএপি সার ডিলাররা উত্তোলন করেছেন। উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ১২ জন ডিলারের মাধ্যমে ৮১ জন সাব ডিলার সার বিক্রয় করে থাকেন। তবে অনেক ডিলার জানান, তাঁদের কাছে ডিএপি সার নেই। সে কারণে কৃষকও পাচ্ছেন না। উপজেলার ডুগুরপাড়া এলাকার খুচরা সার ডিলার ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘ডিলাররা সার না দিলে আমরা বিক্রি করব কিভাবে।’ তবে খুচরা সার ডিলার বিরাজ হোসেন বলেন, ‘ডিলারদের কাছে ডিএপি সার থাকলেও তাঁরা দিচ্ছেন না। ডিএপি সার নিতে হলে বেশি করে টিএসপি সার নিতে হবে।
আর টিএসপি সারের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক বেশি পরিমাণে কিনতেও পারছেন না।’ বীরনগর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেনসহ একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, ড্যাপ (ডিএপি) সার না পাওয়ায় ২৪ টাকা কেজি দরে ফসফেট (টিএসপি) সার কিনে জমিতে দিয়েছি।
অন্যদিকে ধরঞ্জী গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, ৮শ টাকা হলেও সাব ডিলারের নিকট থেকে ১বস্তা ডিএপি সার ১ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। বাগজানা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক চঞ্চল সাহা জানায়, আমি বাগজানার কোন সারের দোকানে সার পাইনি অগত্যা পাঁচবিবি থেকে এক বস্তা ডিএপি সার ১১ শত টাকায় সংগ্রহ করে জমিতে দিয়েছি। তবে দাম বেশি নিলেও সাংবাদিকের নিকট অস্কীকার করেন সাব ডিলাররা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘চাহিদা বেশি থাকায় এ সমস্য হচ্ছে। ডিএপি সার না থাকলেও কৃষকের সমস্যা হবে না। কৃষক টিএসপি ও ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে পারবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যেই ডিএপি সার পাওয়া যাবে।’

মোঃ বাবুল হোসেন / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here