পাঁচবিবিতে ধান, গুড়ার দাম সমানে সমান

0
292

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ গো খাদ্যের তালিকায় সব চাইতে পরিচিত নাম গুড়া। শুকান ধান ভেঙ্গে চাউলের সংগে যে গুড়া বেড়িয়ে আসে সেটিই গবাদি পশুর প্রধান খাদ্য। খর ছানি বা ভাতের মাড়ের সঙ্গে মিশ্রন করে গুড়া দিয়ে গবাদি পশুর তৃষ্ণা মিটানো হয়। পাশাপাশি গবাদি পশুর স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার গুড়া। কিন্তু এবার সেই গুড়া সংকটে পড়েছে পাঁচবিবি উপজেলার গোবাদি পশু পালনকারী ও খামারীরা।
উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে, স্থানীয় কৃষক, গুড়ার দোকানি ও পশু পালনকারীদের সংগে কথা বলে জানা গেছে , প্রতিবার আমন মৌসুমে গুড়ার সংকট দেখা দেয়, কিন্তু এবার এর মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
কৃষকরা জানায়, অন্যান্য বছরের গুড়া সংকটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন এবার। কারন হিসাবে জানায়, প্রতিবছর আমন ধানের মৌসুমে সামান্য ধান ঘরে রেখে সব ধান বাজারে বিক্রয় করে দেন। সে ধান সিদ্ধ শুকান করে চাউল কলে নিয়ে গিয়ে ধান ভেঙ্গে যে পরিমান গুড়া পাওয়া যায়, তা দিয়ে ইরি বোরো ধান কাটামাড়াই পর্যন্ত গৃহপালিত গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা মিটায় যতেষ্ট ছিল। ফলে আমন ধানের গুড়া বাহিরে কম বিক্রয় করা হত। আর এ কারনে আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পর সংকট দেখা দেয়। দামও হয় সাধারন ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
এছাড়াও বর্তমানে জ্বালানী হিসাবে গুড়া দিয়ে পাইপ খড়ি, মুরগির ফার্মে ব্যবহার এবং বানিজ্যিক ভাবে গরুর খামার গুলোতে ব্যবহার হওয়ায় গুড়ার চাহিদা তুলনা মূলক ভাবে বেশি।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন ছোট বড় হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক ধান বাজারে বিক্রয় করছে ৬শত থেকে সাড়ে ৬ শত টাকা মণ, সেখানে গুড়া বিক্রয় হচ্ছে ৬ শত টাকা মণ। ফলে বর্তমানে ধান ও গুড়ার মুল্য প্রায় সমানে সমান।
স্থানীয় গুড়া বিক্রেতা স্বপন কুমার জানান , ইরিবোরো ধান কাটামাড়া এবং সিদ্ধ শুকান করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত গুড়ার চাহিদা বেশী থাকে। স্থানীয় কৃষকদের নিকট থেকেও কাঙ্খিত গুড়া পাওয়া যাচ্ছেনা, উপজেলার যে কয়েকটি মিল চাতাল রয়েছে সেখানে যে পরিমান ধান ভেঙ্গে চাউল করার সময় গুড়া বের হচ্ছে সেটিও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
এ জন্য এবার গুরা সংকট প্রকট ভাবে দেখা দিয়েছে। গুড়ার দাম বৃদ্ধির কারনে নিম্ন আয়ের গবাদি পশু পালনকারী খামারীরা নিরুপায় হয়ে চড়া দামে গুড়া ক্রয় করছে। অপরদিকে কেহ গুড়ার পরিবর্তে বিভিন্ন প্রকারের ভূষি ক্রয় করে গবাদি পশুকে খাওয়াচ্ছে।
তবে স্থানীয় অটো মিল মালিকরা জানান, ইরিবোরো মৌসুমের ধান না আসা পর্যন্ত গুড়ার দাম কমবে না। ইরি-বোরো ধান ঘরে আসলেই গুড়ার দাম এমনিতেই কমে যাবে, তখন গুড়ার মুল্যও চলে আসবে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here