পাঁচবিবিতে ধর্ণা দিয়েও মিলেনি ভাতা কার্ড

0
29
পাঁচবিবিতে ধর্ণা দিয়েও মিলেনি ভাতা কার্ড
পাঁচবিবিতে ধর্ণা দিয়েও মিলেনি ভাতা কার্ড

পাঁচবিবি প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে জন প্রতিনিধিদের নিকট ধর্ণা দিয়েও মেলেনি প্রতিবন্ধি বা বিধবা ভাতার একটি কার্ড। উপজেলার শালাইপুরের কুয়াতপুর গ্রামের মৃত মনোয়ার হোসেনের বিধবা-প্রতিবন্ধী স্ত্রী রুলি বেগম (৩৩) একটি ভাতার কর্ডের আশায় এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। সন্তানদের মুখে আহার তুলে দেওয়ার জন্য বিধবা রুলি পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে আসছেন। শত কষ্ট আর যন্ত্রনার মাঝেও বসে থাকেন না তিনি।

একটি প্রতিবন্ধী বা বিধবা কার্ড পেলে সামনের পথ চলতে সহজ হতো এই রুলি বেগমের। তিনি সাংবাদিককদের জানায়, পরিবারের দ্ররিদ্রতার কারনে অল্প বিয়ে হয় তার। কিন্তুু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস দুই বছর আগে মারা যান স্বামী। সংসারে ৮ বছরের এক মেয়ে ও ৪ বছরের এক ছেলে আছে। ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করে। স্বামী ছিলেন একজন দিনমজুর, তার উপার্জনে চলতো সংসার। স্বামী মারার যাওয়ার পর থেমে যায় তার সংসারের চলার গতি। মাত্র ৪ শতকের ওপর তার একটি বাড়ি, নেই কোন আবাদি জমি।

রুলি বেগম একজন জন্মপ্রতিবন্ধী, শরীরে নেই তেমন জোর, তার বাম পা একেবারে অকেজো, কোন রকম চলাফেরা করেন । অনেকটায় স্বামীর উপর ভর করে চলতে হতো তাকে। স্বামী মারা যাওয়ার পর আজ তিনি দিশেহারা। একটি কুড়ে ঘর, তার মাঝে দুই সন্তান নিয়ে বসবাস, একটু ঝড়-বৃষ্টিতেই নড়ে উঠে তাদের এই ঘর। সারাদিন মানুষের বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে যা পান তাই এনে তুলে দেন সন্তানদের মুখে। তিনি বলেন, কখনও ভাবতে পারিনি এতো অল্প বয়সে স্বামী কে হারাতে হবে।

আমি তো অক্ষম মানুষ, পায়ে তেমন কোন জোর পাই না। তারপরও সন্তানদের জন্য আমার এই সংগ্রাম। স্বামী থাকতে ছেলে-মেয়ে, সংসার আর স্বামীকে নিয়ে ছিলো আমার কর্ম ব্যস্ততা। আজ আমি একজন প্রতিবন্ধী-বিধবা নারী। সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাতে আমার এই সংগ্রামী পথ চলা। আমি মূর্খ মানুষ, কোন ডান-বাম বুঝি না। একটি প্রতিবন্ধী কার্ডের আশায় এ যাবৎ বিভিন্ন মহলে ধর্ণা ধরে ছিলাম, কিন্তু কোন কাজ হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু মিয়া জানান, বর্তমান আমরা বয়স্ক,

প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য গ্রামের সবাইকে অবগত করেছি। রুলি বেগমকে আমি চিনি, সে একজন অসহায় বিধবা প্রতিবন্ধী নারী। আগামীতে আমি তার একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।পাঁচবিবি উপজেলার ৭ নং কুসুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুক্তার হোসেন জানান, আমার ইউনিয়নে মাইকিং করে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়ে আসছি। রুলি বেগমকে আমরা দেখি, যদি সে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত হয়ে থাকে তাহলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হবে।

আর যদি সেটি পাবার উপযুক্ত না হয় তাহলে তাকে বিধবা ভাতার কার্ড অবশ্যই করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সেলিম রেজা জানান, রুলি বেগম যদি প্রতিবন্ধী তালিকায় তার নাম থাকে তাহলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হবে। তা না হলে তাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিবো।

মোঃ বাবুল হোসেন / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here