পাঁচবিবিতে খামারীর প্রণোদনায় এলএসপি কর্মকর্তার ভাগ

0
50
0 Shares

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) সংবাদদাতাঃ জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ডেইরী ও পোল্ট্রি খামারি দের প্রণোদনার টাকায় ভাগ বসালেন ইউনিয়ন এলএসপি কর্মকর্তারা। এ দিকে প্রণোদনার নগদ অর্থ না পাওয়ায় ফুঁসে উঠেছে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খামারীরা । তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্তকরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সারা দেশে করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারীদের ডেইরী ও পোল্ট্রি খামারিদের ক্ষতি কাটি য়ে নগদ আর্থিক সহায়তা (প্রণোদনা) প্রদানের ঘোষনা দেন সরকার।

তারই ধারাবাহিকতায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ ও অস্বচ্ছল প্রায় ২ হাজার ৭শ’ খামারিদের তালিকা তৈরী করে পাঠিয়েছে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ। তবে এই তালিকা তৈরীতে একাধিক অনিয়ম ও নয় ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলার আওলাই ইউনিয়নে এই প্রকল্পের এক নারী কর্মকতার্কে বহিস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ খামারি যাদের নাম একাধিকবার তালিকাভুক্ত করা হলেও তারা প্রণোদনা পায়নি।

অথচ যাদের কোন খামার নেই তারা এই প্রণোদনার টাকা পেয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নে এলডিডিপির প্রকল্পের (এলএসপি) কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রসুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কমিশনের ভিক্তিতে লোক মারফত চুক্তির মাধ্যমে তালিকা তৈরী করে অনেকটাই স্বেচ্চা চারিতা ও অর্থ লেনদেন করেছে প্রণোদনার টাকা গ্রহণকারী একাধিক খামারির কাছ থেকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার করে টাকা নিয়েছে। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই এলএসপি কর্মকতার্র ছোট ভাই আব্দুর রব তূষার প্রণোদনার টাকা পেলেও তার কোন গাভী নেই।

হাটখোলা গ্রামের আব্দুল আলিম বলেন, এই তালিকা তৈরীর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রসুল খামারি দের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। পোল্ট্রি খামারির মালিক মোঃ সুফির আলী ও মেহেদী হাসান বলেন, “দীর্ঘদিন যাবৎ মুরগী পালন করে আসছি। করোনা কালীন সময়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ। আমাদের প্রণোদনার কথা বলে নাম-ঠিকানা ও ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে গেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন প্রণোদনা পাইনি। অথচ এলাকার এমন কিছু খামারিদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে যাদের কোন খামার নেই।

এ বিষয়ে এলডিডিপি প্রকল্পের ধরঞ্জী ইউনিয়নের এলএসপি কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রসুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি কোন টাকা নেইনি।” উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নিয়াস কাসমীর রহমান বলেন “আমি প্রায় এক সপ্তাহ আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” উপজেলা প্রণোদনা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরমান হোসেন বলেন, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ বাবুল হোসেন / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here