পাঁচবছরের জমানো টাকা ফেরত চাওয়ায় এক বৃদ্ধা ভিক্ষুক কে হত্যার চেষ্টা

0
117
0 Shares

হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক বৃদ্ধা ভিক্ষুক দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভিক্ষার জমানো টাকা ফেরত চাইলে আপন বোনের মেয়ের ছেলের হাতে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী পৌরসভার ১১ মাইল এলাকায় লায়লা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা ভিক্ষুক ভিক্ষা করার সময় এ হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রথমে পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে অজ্ঞান করে দেয়।

তারপর তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পৌরসভাস্থ আলিফ হাসপাতালের পেছনে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে চোখের উপরে ছুরিকাঘাত ও সারা শরীরে ধাতব কোন বস্তু দিয়ে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করে, সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে তার জ্ঞান ফিরলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

আহত লায়লা বেগম উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রিয়াজ উদ্দীন খন্দকারের বাড়ীর মৃত মুন্সি মিয়ার স্ত্রী বলে জানাগেছে, তিনি দীর্ঘ পাঁচবছর ধরে তার আপন বোনের মেয়ে রাজু (প্রকাশ) রাইজ্জনির হাতে প্রতিদিনের ভিক্ষা করা টাকা, বয়স্ক ভাতার টাকা ও প্রতি ঈদের যাকাত ফিতরার টাকা জমা রাখতেন, একই ভাবে এক আমেরিকান প্রবাসীর দেয়া কাফনের কাপড়, একটি বেতের পাটি ও একটি বসার মোড়াও জমা রাখেন রাইজ্জ নির হাতে।

আহত বৃদ্ধা ভিক্ষুক লায়লা বেগমের একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (২৪) ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমার মা পেটের তাড়নায় ভিক্ষা করেন। কোন পুত্র সন্তান না থাকায় সম্পূর্ন একা আমার মা। তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করেন। আর ভিক্ষার প্রতিদিনের জমানো টাকা, বয়স্ক ভাতার টাকা এবং প্রতি ঈদের যাকাত ফিতরার টাকা বিশ্বাস করে জমা দেন মায়ের আপন বোনের মেয়ে রাজু প্রকাশ রাইজ্জুনির হাতে।

এভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ প্রায় ৪থেকে ৫লক্ষ টাকা জমা দেন তার হাতে। একইভাবে এক আমেরিকান প্রবাসী র দেয়া কাফনের কাপড়, একটি বেতের পাটি ও একটি বসার মোড়া জমা রাখেন তার কাছে। প্রায় ৬মাস আগে তার কাছে টাকাগুলো ফেরৎ চাইতে গেলে টাকা তার ছেলেদের দিয়ে দিয়েছে, কোন টাকা নেই আর পাবেওনা বলে তাড়িয়ে দেয় মাকে।

পরে বিষয়টি স্থানীয় সর্দার জসিম কে অবহিত করিলেও তারা সর্দারকে জানায় তিন হাজার টাকা পাইত তা দিয়ে দিয়েছে, তারা আর কোন টাকা পাবেনা। পরে বুধবার বিষয়টি ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি লিখিত ভাবে পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করতে বলেন। কিন্তু তার পরদিনই আমার মাকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে চিরতরে নিস্তব্ধ করে দিতে চাইল রাইজ্জুনির পরিবার।

আহতের বরাত দিয়ে মেয়ে আরো বলেন, বৃহস্প্রতিবার বেলা ১১টার দিকে হাটহাজারী ১১ মাইল এলাকায় ভিক্ষা করার সময় কেউ পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে অচেতন করে দেয়। পরে আলিফ হাসপাতালের পেছনে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য অচেতন অবস্থায় মাকে চোখের উপরে ছুরিকাঘাত ও সারা শরীরে ধাতব কোন বস্তু দিয়ে পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতাবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তির করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে মায়ের জ্ঞান ফিরে আসে।

তবে অচেতনের আগে রাজুর ছেলে জাহেদকে দেখতে পায়। সে ঐ সময় একটি দোকানে বসে ছিল। এদিকে লোক মারফত খবর পেয়ে আমি হাটহাজারী গিয়ে মাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করাই। তিনদিন চিকিৎসা শেষে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরৎ আসি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, আমার বাবা, একটা ভাই ছিলো সেও নিখোঁজ অনেক বছর ধরে, ভিক্ষা করে মা পেট চালায়।

বিশ্বাস করে টাকা বোনের মেয়ের কাছে জমা রাখে আর সে টাকার জন্য মাকে হত্যার চেস্টা করা হল। অসহায় মা এখন কি করবে ভিক্ষাও করতে পারবেনা জর্জরিত এ শরীর নিয়ে। আমার মায়ের কস্টের টাকা ফেরৎ চাই একইসাথে হত্যার চেস্টাকারীর বিচার চাই। আপনারা আমাদের সাহায্য করুন। এ বিষয়ে ফতেপুর ইউপি সদস্য হামিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুধবার আমার কাছে এসেছিল আমি লিখিত ভাবে পরিষদে

অভিযোগের পরামর্শ দিই কিন্তু তার আগেই মহিলাটির উপর নৃশংস হামলা হয়েছে। হামলার ঘটনায় দোষিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন তিনি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট মোহাম্মদ শামিম বলেন একজন বয়স্ক ভিক্ষুকের উপর এভাবে হামলা সত্যিই ব্যথিত করেছে। দোষিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন যে কোন সহযোগিতা লাগুক আমি করব।

অভিযুক্তদের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মোঃ সাজ্জাদ বলেন, আমি খুব অসুস্থ। বাসায় আছি, তার পরেও খবর নিয়েছিলাম তারা বাড়িঘরে নেই। এ দিকে রোববার রাতে হাটহাজারী মডেল থানায় হামলার শিকার লায়লা বেগম লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলেও জানান থানার ডিউটি অফিসার এসআই বাশার।

মোঃ সাহাবুদ্দীন সাইফ / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ