নেশা থেকে পেশায় ফটোগ্রাফার আবু নাসের

0
410

ফোটোগ্রাফী জীবনে ২৫ বছর পার করছেন বাংলাদেশের এডভার্টাইজিং এবং ফ্যাশন ফটোগ্রাফার আবু নাসের। মাত্র আড়াই হাজার টাকা দামের ‘জেনিথ ১২২’ ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা শুরু। এর পর ধীরে ধীরে ছবি তোলা নেশা থেকে পেশায় পরিণত হয় তাঁর। যেখানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে   এক নামে যাকে চিনেন। বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি তে গ্লামার এবং ফ্যশন ফটোগ্রাফিতে রেখেছেন অনেক অবদান। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ও ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর জনপ্রিয়তা।

আবু নাসের অনেক নতুন মূখদের মিডিয়ায় / ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। অনেক মডেল/অ্যাক্ট্রেসের শুরুটা তার তোলা ছবি দিয়ে হয়েছে এবং তাদের অনেকেই আজ সাকসেসফুল। অনেক মডেল /মেকাপ আর্টিস্ট /এবং স্টাইলিস্ট দের সুযোগ দিয়েছে তার সাথে কাজ করার। বাংলাদেশের এডভার্টাইজিং ফিল্ডে রয়েছে আবু নাছের এর অনেক কাজ, স্বনামধন্য সব ব্র্যান্ডের এডভার্টাইজিং ফটোশুট এর কাজ গুলো তিনি করে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে।

এছাড়াও কাজ করেছেন অনেক ফ্যাশন হাউজের সাথে। করেছেন ফুড ফটোগ্রাফি ই-কমার্স ফটোশুট, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি আর্ট ফটোগ্রফি কোন কিছুতেই তিনি পিছিয়ে নেই কাজের মধ্যে দিয়েই এতটা বছর পার করেছেন। কোন কাজকে ছোট বা বড় করে তুলনা করে দেখেননি কাজকে কাজ মনে করে করেছেন।

আবু নাসের জানান, ১৯৯৪ সালের দিকে মিনোল্টার একটি ক্যামেরা দেখে আমার খুব শখ হয়েছিল ক্যামেরা কেনার। আমার বাবা বিভিন্ন ম্যাগাজিন কিনে আনত বাসায়। সেই ম্যাগাজিনে বিভিন্ন ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ছবি দেখে ভাবতাম, আমিও একদিন এভাবে ছবি তুলব। বাবাকে গিয়ে বললাম, ক্যামেরা কিনতে চাই? তখন তিনি আমাকে বললেন, একটা ক্যামেরার দাম লাখখানেক হবে। তুমি এটা দিয়ে কী করবে? আমি তো শুনে খুবই অবাক। এটার এত দাম কেন? বললাম, থাক লাগবে না। এসএসসি পরীক্ষার পর যখন রেজাল্ট দিল, তখন আমার বাবা ভাবতেই পারেননি যে আমি এত ভালো রেজাল্ট করব।

কারণ, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে আমি নির্ঘাত ফেল করব। অথচ ঘটল ঠিক তার উল্টোটা। রেজাল্ট ভালো হওয়ার কারণে বাবা খুশি হয়ে জানতে চাইলেন, কী চাই আমি তাঁর কাছে। তখন সাহস করে তাঁর কাছে ক্যামেরাটাই চেয়ে বসলাম। কিন্তু সেই লাখ টাকার ক্যামেরা নয়। বাবা বললেন, যখন কিনবে ভালোটাই কেনো। আমি বললাম, প্রথমে কম দামে কিনে শিখে নিই। তার পর আমি নিজেই কিনে নেব। সে সময় আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ‘জেনিথ ১২২’ ক্যামেরা কিনি। মজার ব্যাপার হলো, এই ক্যামেরা দিয়েই আমার হাতেখড়ি হয়েছিল। আমার খালাতো ভাইয়ের কাছে এই মডেলের ক্যামেরাটাই ছিল। যেহেতু এই ক্যামেরাটা সম্বন্ধে আমি জানতাম, তাই তখন এটাই কিনেছিলাম। ৪ অক্টোবর আমার জন্মদিন ছিল। সেদিনই বাবা আমাকে ক্যামেরাটা কিনে দেন। তখন থেকেই ছবি তোলা আমার শখ থেকে নেশায় পরিণত হয়। আর নেশা থেকে পেশায়।

উল্লেখ্য, আবু নাছের ১৯৯৪ সাল থেকে শুরু করেছেন ফোটোগ্রাফী। পল ডেভিড বারিকদার-রিনাউন্ডফোটোফার ফ্যশন এবং এডভার্টাইসিং ফটোগ্রাফার। আবু নাসের যাকে অ্যাসিস্ট করেছেন বহু বছর তিনি কিছু স্মৃতির কথা আবু নাছেরের উদ্দেশে বলেন আবু নাসের ও আবেগ আপ্লুত হয়ে যায় এবং যাকে তার গুরু মানে, (ডেভিড বারিকদার)   তার বিষয় কিছু কথা বলেন । এবং   সকল বন্ধু এবং শুভাকাঙ্খীদের কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভিডিওর মাধ্যমে, আলোচনা করেছেন নানান বিষয় নিয়ে।

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here