নওগাঁর মান্দায় এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগীতায় অনলাইন ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘TOPSMA’

0
204
2 Shares

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং অসহায় পরিবারকে আর্থিক সহায়তাকারী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘TOPSMA’ (ট্রাস্ট ফর অরফান এন্ড পোর স্টুডেন্ট অফ মান্দা)। এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন। সংগঠনের সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রতিমাসে চারজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। গত এক বছর থেকে জেলার মান্দা উপজেলায় এ সংগঠনটি তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এমন কাজের জন্য স্বল্প সময়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন এ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্তরা। তবে সহযোগীতা পেলে আরো বড়পরিসরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকের মাধ্যমে ‘টিওপিএসএমএ’ এ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। ফেসবুকে ‘টিওপিএসএমএ’ নামের একটি গ্রুপ রয়েছে। যেখানে শিক্ষক, অ্যাডভোকেট, সাংবাদিক, সমাজ সচেতন ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা এ গ্রুপের সদস্য। এখন পর্যন্ত এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা হয়েছেন ৪৯ জন। চলতি জানুয়ারী মাস পর্যন্ত ২৬ জন শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা করে ২৬ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগীতা দেয়া হয়েছে। গ্রুপের সদস্যরা প্রতিমাসে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দান করে থাকেন। কোন সদস্য যদি কোন মাসে টাকা দিতে না পারেন তাহলে জোর করা হয় না। এছাড়া সদস্যদের বাহিরের কোন ব্যক্তির সহায়তা নেয়া হয় না বলেও জানা গেছে। তবে কেউ সহযোগীতা করতে চাইলে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপের সদস্য হতে হবে।
গ্রুপের সদস্যরাই এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন করে থাকেন। পর্যায়ক্রমে সকল সদস্যরা আবেদন করতে পারবেন। প্রতিমাসের শেষ সপ্তাহে সদস্যরা তাদের এলাকার বা যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর জন্য আবেদন করেন। পরের মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীর হাতে অনুদানের টাকা প্রদান করেন সংগঠনের সদস্যরা। প্রতি মাসে প্রায় চারজনকে আর্থিক অনুদান প্রদান করে সংগঠনটি। অনুদানের জন্য শিক্ষার্থীর নাম, বাবা-মা, প্রতিষ্ঠান ও গ্রামের নাম, শ্রেনী, রোল নম্বর ও মোবাইল নম্বর সহ আবেদনকারী তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন করে থাকেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা করা হয়। এমন নিরবে শিক্ষাক্ষেত্রে উপজেলার সর্বত্র এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহযোগীতা করে যাচ্ছে এ সংগঠনটি।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলেন, যে টাকা তারা পেয়েছেন তা শিক্ষা উপকরণ কেনাসহ পড়াশুনার কাজে ব্যয় করবেন। সংগঠনটি তাদের এ সেবামুলক কাজে আরো এগিয়ে যাক এমন প্রত্যাশা তাদের।
উপজেলার জিঐল গ্রামের হাফিজ আল আসাদ (রুমেন) বলেন, একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। যা মান্দা উপজেলার দুস্থ, এতিম, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা করে থাকে। আমি এ সংগঠনের সদস্য হতে পেতে অনেক গর্বিত।
উপজেলার ঘাটকৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: মঞ্জুুরুল হাসান বলেন, এটি অনলাইন স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন। যার কোন অফিস নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই আমরা সচেতনরা এর কার্যক্রম শুরু করেছি। গ্রুপের সকল সদস্যরা এটা পরিচালনা করে থাকেন। গ্রুপের সব সদস্যই সমান। সবার মতামতকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। আমরা স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করা হবে। এছাড়া অনুদানের পরিমাণও একটু বাড়ানো হবে। সেই সাথে সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন তিনি।
মান্দার পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইলিয়াস খান বলেন, এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। এমন উদ্যোগ সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়–ক। আমাদের সমাজে অনেক বৃত্তবান ব্যক্তি রয়েছেন যারা ইচ্ছে করলেই দরিদ্র ও মেধাবীদের সহযোগীতা করতে পারেন। সংগঠনের কোন সহযোগীতার প্রয়োজন হলে তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলেও জানান।

মাহবুবুজ্জামান সেতু/ দৈনিক সংবাদপত্র

2 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ