দুই মাসে বিশ কেজি চর্বি গলানোর ম্যাজিক (১ম পর্ব)

0
1077
151 Shares

কুমিল্লা চান্দিনা প্রতিনিধিঃ আমার শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি গলানোর সময়কাল ১৮ নভেম্বর ২০১৯ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত। পূর্বের ওজনঃ ৮৪ কেজি
বর্তমান ওজনঃ ৬৪ কেজি
পূর্বের কোমড়ঃ ৩৯ (প্রায়)
বর্তমান কোমড়ঃ ৩৪.৫
অনেকেরই কৌতহল কীভাবে সম্ভব করেছি ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় অনেককেই বলে থাকি। আমার অনেক শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী, ছাত্র–ছাত্রী, কলিগ, বন্ধু এবং সর্বোপরি সকলের উদ্দেশ্যে সচেতনতার জন্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা। তাহলে চর্বি কী জেনে নেই। কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন, গ্লিসারলের প্রাকৃতিক এস্টারের যেকোনো গ্রুপ এবং বিভিন্ন ফ্যাটি এসিডকে চর্বি বলে।
কার্বন, হাইড্রোজেন, এবং অক্সিজেন নিয়ে স্নেহপদার্থ বা চর্বি গঠিত হয়। চর্বি বলতে এমন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক বস্তুকে বুঝানো হয় যার উপাদান হিসেবে ফ্যাটি এসিড বিদ্যমান থাকে। চর্বিকে সহজভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। ১.সেচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বিঃ যা জীবজন্তুর দেহ থেকে পাওয়া যায় এবং সহজ ভাষায় তাকে চর্বি বলা হয়, যেমন মাছ ও মাংসে বিদ্যমান চর্বি।
২. আনসেচুরেটেড ফ্যাট বা অসম্পৃক্ত চর্বিঃ যা উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়, যাকে তেল বলে অভিহিত করে থাকি, যেমন সরিষার তেল, নারকেল তেল,সয়াবিন তেল, কালোজিরার তেল, বাদামের তেল, সূর্যমুখীর তেল, ভেন্নার তেল, তিলের তেল, তিসির তেল, ক্যানোলা অয়েল, জলপাই তেল বা অলিভঅয়েল ইত্যাদি।
সম্পৃক্ত চর্বি ও অসম্পৃক্ত চর্বি বা চর্বি ও তেল খুব সহজেই আলাদা করা যায়। সম্পৃক্ত চর্বি বা চর্বি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন বস্তু হিসেবে থাকে এবং অসম্পৃক্ত চর্বি বা তেল স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল বস্তু হিসেবে বিদ্যমান থাকে। তেল-চর্বি অত্যধিক শক্তিদায়ক খাদ্যবস্তু।
এক কেজি চাল অথবা এক কেজি মাছ-মাংস থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় এক কেজি তেল-চর্বি থেকে তার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি পাওয়া যায়। সুতরাং তেল-চর্বি অত্যাধিক শক্তিদায়ক খাদ্যবস্তু। খাদ্য তৈরিতে তেল-চর্বি ব্যবহারের ফলে খাদ্যবস্তু দৃষ্টিনন্দন ও সুস্বাদু হয় এবং খাদ্যে সুগন্ধ আনয়ন করে ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে। তেল-চর্বিজাতীয় খাদ্য অনেক ধরনের ভিটামিনের উৎস, যেমন ভিটামিন A, D, E, K ইত্যাদি। তেল-চর্বি প্রয়োজনীয় মাত্রায় গ্রহণ না করলে এসব ভিটামিনের ঘাটতি ঘটে, ফলে স্বাস্থ্যহানি হয়ে থাকে।
তেল-চর্বিতে কিছু অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিডও বিদ্যমান থাকে যা খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক, কারণ আমাদের শরীর ওইসব ফ্যাটি এসিড তৈরি করতে পারে না এবং এসব ফ্যাটি এসিডের অভাবে মানুষ অসুস্থ্য হয়ে যেতে পারে বা স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। তেল-চর্বিতে কোলেস্টেরল নামক এক ধরনের সুপার চর্বিজাতীয় পদার্থ বিদ্যমান থাকে। কোলেস্টেরল অল্প পরিমাণে দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন আমাদের খাদ্যে গড়পড়তায় ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম তেল-চর্বি থাকা স্বাস্থ্যসম্মত তবে ২০ থেকে ২৫ গ্রাম তেল-চর্বি অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে, তা না হলে আপনি অপুষ্টিতে ভুগবেন। কোনোভাবে দৈনিক ১০০ গ্রামের অধিক তেল-চর্বি গ্রহণ করা উচিত নয়।
জীবজন্তু থেকে প্রাপ্ত খাদ্যে অনেক আকার-প্রকারে চর্বি বিদ্যমান থাকে যেমন-ডিমের কুসুম, দুধের সর, ঘি, কলিজা, মগজ, ভুঁড়ি, তৈলাক্ত মাছ, মাছের ডিম ও মাথা এবং মাছ ও মাংসের পরতে পরতে অনেক চর্বি বিদ্যমান থাকে।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাত্রায় তেল-চর্বি গ্রহণের ফলে মানবদেহে চর্বি জমা হতে হতে মানুষের ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে, মেদভুঁড়ি দেখা দেয়, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়, শারীরিক যোগ্যতা কমে যায়, যার ফলে কায়িকশ্রম সম্পাদনের যোগ্যতা কমে যায়। কায়িকশ্রম না করার ফলে ব্যক্তি আরও বেশি মোটাসোটা হতে থাকে, ফলশ্রতিতে মানুষ এক ধরনের দুষ্টচক্রে পড়ে আরও মোটা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পতিত হয়।
মৌচাক
অর্গানিক পন্য প্রতিষ্ঠান
ভেজালের ভিড়ে খাঁটি পন্যের খোঁজে…

স্বাস্থ্য কথার প্রতিবেদক/ দৈনিক সংবাদপত্র

151 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ