দক্ষিন আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবকের লাশ দাফন

0
80
দক্ষিন আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবকের লাশ দাফন
দক্ষিন আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবকের লাশ দাফন
0 Shares

সোনাইমুড়ী প্রতিনিধিঃ দক্ষিন আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্বদের গুলিতে নিহত সোনাইমুড়ীর শিমুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের (৩৩) লাশ দাফন করা হয়েছে। শনিবার সাড়ে আটটার দিকে পৌরসভার শিমুলিয়া গ্রামে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে জাহাঙ্গীরের কফিন বন্দি লাশ দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে উঠে। এর আগে শনিবার বেলা ১০ টায় বিমান যোগে তার লাশ

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতীক বিমান বন্দরে এসে পৌছলে তার বড় ভাই আলুমগির হোসেন লাশ গ্রহন করে।জাহাঙ্গীরের হত্যাকান্ড পরিকল্পিত ভাড়াটিয়া খুঁনি দ্বারা সংগঠিত বলে দাবী করেছে তার পরিবার। নিহতের বড় ভাই আলমগীর হোসেন জানান, আমার ভগ্নিপতি পৌরসভার রামপুর গ্রামের আমজাদ বেপারি বাড়ির রাফায়েত উল্যার ছেলে জাকির হোসেনের (৪২) সাথে ছোট ভাই জাহাঙ্গীরের ব্যবসায়ীক বিরোধ চলে আসছিলো।

তারা দুজন একই স্থানে থাকতো। জাহাঙ্গীর আলম গত ১২ বছর আগে ভগ্নিপতি জাকিরের মাধ্যমে দক্ষিন আফ্রি কায় গিয়ে দোকানে কাজ করতো। দুই বছর পরে জাহাঙ্গীর আলাদা ব্যবসা শুরু করে। জাকিরের মালিকা নাধীন একটি দোকানে থাকলেও ১০ বছরে জাহাঙ্গীর মোট ছয়টি দোকান গড়ে তোলে। একই স্থানে উভয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার ফলে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারন করে।

চলতী বছরের প্রথম দিকে জাকির বাংলাদেশে আসে। মার্চ মাসে লকডাইন শুরু হলে সে আটকা পড়ে। এ সময় সে স্ত্রী রজিনাকে (৩০) শারিরীক ভাবে মারধর করতে থাকে এবং বাপের বাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা ধার হিসেবে আনতে বলে। ১৫ লাখ টাকা নেয়ার পরও বন্ধ হয়নি তার অমানবিক নির্যাতন। পরবর্তীতে বাপের বাড়ি থেকে আরো ৪২ লাখ এনে দেওয়ার জন্য রোজিনার উপর প্রতিনিয়ত নির্যাতন চালাতে থাকে।

রোজিনা মোবাইল ফোনে এসব কথা জানালে আমরা পুলিশের সাহায্যে তাকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় রোজিনা নারী ও শিশু নির্যানত আইনে জাকিরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে পুলিশ জাকির কে আটক করে আদালতে চালান দেয়। এ ঘটনার পর থেকে সে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। জাকির গত মে মাসে আমার উপর হামলা চালায় এবং আমার ভাই জাহাঙ্গীরকে ভাড়িটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।

সে দীর্ঘ দিন দক্ষিন আফ্রিকায় থাকার সুবাদে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ অপরাধী চক্রের সাথে সক্ষতা রয়েছে। সে বাংলা দেশে অবস্থান করে খুঁনিদের সাথে আর্থিক লেনদেন করে তার পথের কাটা পরিস্কার করতে এই হত্যা কান্ড ঘটিয়েছে। আমরা বাংলাদেশ সরকারের নিকট বিনিত ভাবে এই হত্যা কান্ডের বিচার দাবী করছি। উল্লেখ্য গত সোমবার ১৪ই সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে চারটায় দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার

নিউ ক্যাসেল শহরের ওসোজানী বক্স সেন্টারের সামনে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্তরা নিজ দোকানের। সামনে সোনাই মুড়ী পৌরসভার শিমুলিয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ মৌলভী বাড়ীর আতিক উল্যা মাস্টারের ছেলে জাহাঙ্গীরকে গুলি করে হত্যা করে।

মোঃ মনিরুল ইসলাম ফয়সাল / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ