ত্রাণ-সামগ্রী পাচ্ছে না জলঢাকার অসহায় মানুষেরা

0
190
ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ বিশ্বব্যাপী হানা দিয়েছে মহামারি করোনা ভাইরাস। ভাইরাস থেকে বাঁচতে গৃহে অবস্থান করছে দেশের মানুষ। ফলে কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পরেছে নীলফামরী জেলা জলঢাকা উপজেলার গোলনা ইউনিয়ন এলাকার দরিদ্র মানুষেরা। খেটে খাওয়া কর্মহীন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের সাহায্যের জন্য সরকার সারাদেশে ত্রাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ এলাকার মানুষেরা। উত্তরবঙ্গের এ এলাকার মানুষদের সহযোগিতা করার জন্য এখন পর্যন্ত কোন স্থানীয় কিংবা জনপ্রতিনিধি কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। ফলে না খেয়ে দিন যাপন করতে হচ্ছে অনেক কে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জলঢাকা উপজেলার শুধু ৪নং গোলনা ইউনিয়নে বসবাস করে ১৭ থেকে ১৮ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে দরিদ্র মানুষ বসবাস করে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার। এসব দরিদ্র মানুষের মাঝে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউই। তবে ভিক্ষুকদের ত্রাণ দিলেও গত রোববার গোলনা ইউনিয়নের প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ২০ জন দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করা হয় যা জনসংখ্যার তুলনায় খুবেই নগন্য। এসব দরিদ্র মানুষের পাশে নেই কেউ।

স্বজনপ্রীতি করে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। যাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে তারা অনেকেই স্বাবলম্বি। ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বঞ্চিত অসহায় ও দরিদ্র মানুষেরা। তালিকা করে দদ্রিদের ও অভাবগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করার দাবি করেছেন অনেকে। ক্ষোভ প্রকাশ করে বিকাশ রায় বলেন, আমাদের ইউনিয়নে শুধু মানুষের কাছ থেকে নেওয়ার লোক আছে কিন্তু গরীব মানুষকে দেয়ার লোক নেই। আমি সরকার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিষয়গুলো দেখার জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দরিদ্র ব্যক্তি বলেন, ’দেশব্যাপী লকডাউনের কারনে আমরা কর্মহীন হয়ে পরেছি। ফলে পরিবাবের মাঝে খাদ্য জোগান দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই।’ আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এখনও তালিকা জমা করতে পারে নি। আজকেও ফেরত এসেছে বলে জানা গেছে। তাদের ভুলের জন্য সমস্যায় পরেছে দরিদ্র মানুষেরা। ৪নং গোলনা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবির বলেন, করোনায় জনগণের মাঝে তিনবেলা খাবার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তারপরেও আমরা ইতোমধ্যে তিন শতাধিক মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। নতুন তালিকা করা হয়েছে। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি সমস্যা সমাধান করা হবে। জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে কল দিলে দিনে মিটিংয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জলঢাকার অতিরিক্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার প্রেরিত ত্রাণ স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সকল দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করার কথা। দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ না করার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করছি।’

আজাহার ইসলাম / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here