তিন বিবেচনায় পরীর জামিন

0
45

পরীমণির বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় জামিন শুনানি শুরু আজ মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) বেলা ২টার সময়।  ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীর জামিন শুনানি করেন।

এ সময় পরীমণির আইনজীবী মজিবুর রহমান বলেন, আসামি পরীমণিকে সাত দিনের রিমান্ডে অলরেডি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই রিমান্ডে নেওয়ার পরও কোনও তথ্য উদঘাটন করা যায়নি। রিমান্ডে থাকার কারণে পরীমণির অবস্থা অবনতির দিকে গিয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

পরীমণি কারাগারে থাকার কারণে তার অনেক (সিনেমার) কাজ বন্ধ রয়েছে দাবি করে তার আইনজীবী বলেন, তিনি অনেক ছবির কাজ করেছেন। কারাগারে থাকার কারণে প্রীতিলতা নামের একটি সিনেমায় তিনি কাজ করতে পারছেন না। তিনি একজন নারী, তিনি জামিন পেতে পারেন। এ ছাড়া আসামি যদি নারী, শিশু অথবা বিকলাঙ্গ হয় তাহলে আদালত জামিন দিতে পারেন।

আসামি একজন চিত্রনায়িকা, দেশে এবং বিদেশে অনেক ছবির কাজ চলছে উল্লেখ করে তাকে জামিন দিলেও তিনি পলাতক হবেন না বলে আদালতে দাবি করেন তার আইনজীবী। মজিবুর রহমান বলেন, এ মামলার যে ধারা সেটা সর্বোচ্চ সাজা হচ্ছে পাঁচ বছর। সেক্ষেত্রে আসামি অবশ্যই জানান পেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, যে কোনও শর্তে আমরা জামিন চাই। আর জামিন পেলে আসামি পলাতক হবেন না।

এরপর ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকাকে নারী, শারীরিক অসুস্থতা এবং অভিনেত্রী, এই তিন বিবেচনায় জামিন দেন আদালত।

রোববার (২৯ আগস্ট) উচ্চ আদালতের নির্দেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পরীমনির জামিন শুনানির জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে পরীমনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। পরে তার আইনজীবীরা এ নিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

গত ৪ আগস্ট ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে’ অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

ওইদিনই রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে র‌্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে করে বনানী থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।

এরপর প্রথমে তার চারদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরও দুই দফায় তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।

২০১৪ সালে সিনেমায় ক্যারিয়ার শুরু করা পরীমনি এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here