তানোরে ‘আশা সমিতি’র বিরুদ্ধে হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ

0
210

তানোর রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোরে ‘আশা সমিতি’র ম্যানেজার ও মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের নারী সদস্য জরিনা খাতুন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর মেয়র বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের জরিনা খাতুন প্রায় ০৪ বছর আগে ‘আশা’ নামক সমিতির তানোর-১ শাখায় সদস্য হিসেবে ভর্তি হন। পরে ওই সমিতির জিওল সকাল-সন্ধ্যা নামক ২০ নম্বর কেন্দ্রের সদস্য হিসেবে ঋণ গ্রহণ করেন তিনি। অফিসের নিয়ম অনুযায়ী ঋণের টাকা পরিশোধ করে অদ্যবধি লেন-দেন অব্যহত রয়েছে তার।
এ অবস্থায় গত ১ মাস আগে ওই কেন্দ্রে রাশেল নামের এক নতুন মাঠকর্মী নিয়োগ হয়। তিনি কেন্দ্রে গিয়ে জরিনার কাছে বেশ কয়েকটি কিস্তিও আদায় করেন। সম্প্রতি পূর্বের সমস্ত ঋণ একযোগে পরিশোধ করে নতুন ভাবে ঋণ গ্রহণের প্রস্তাব দেন জরিনা। এতে মাঠকর্মী রাশেল রাজি হয়ে সমস্ত কিস্তির টাকা একযোগে পরিশোধ করতে বলেন। কথামতো চলতি বছরের ১ জানুয়ারী ৬ হাজার ৫৭১ টাকা পরিশোধ করে নতুন ভাবে ৭০ হাজার টাকা ঋণ প্রস্তাব করেন জরিনা খাতুন।
এহেন অবস্থায় পরের সপ্তায় ঋণ প্রদানের কথা বলে সঞ্চয় বই জমা নেয়ার পাশাপাশি ৩ জন জামিনদারের সাক্ষর ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিও নেয়া হয়। এছাড়াও ফাঁকা নন-জুডিশিয়াম স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে কাগজপত্র খরচ বাবদ ৫০০ টাকাও নেন মাঠকর্মী।
অভিযোগে বলা হয়, এতো কিছু করার পরও সমিতির মাঠকর্মীকে বকসিশ (উৎকোচ) দিতে রাজি না হওয়ায় গত ১ জানুয়ারী থেকে ‘ঋণ’ হয়রানি ও বিড়ম্বনায় পড়েছেন তিনি। ঋণের নামে এভাবে হয়রানির ব্যাপারে এক পর্যায়ে মাঠকর্মী জরিনাকে জানান, গ্রামের লোক আপনার সম্পর্কে ভাল বলছে না। তবুও ঋণ দেব। তবে, বকসিশ হিসেবে ৫ হাজার টাকা আমাকে দিতে হবে।
তবে শর্ত, এই কথা ম্যানেজার বা কাউকে বলা যাবে না। যদি কাউকে জানানো হয় আপনার ঋণ বন্ধ করে দেব। জরিনা বকসিশ দিতে না চাইলে মাঠকর্মী প্রকাশ্যে হুমকী দিয়া বলেন, টাকা না দিলে এমন কোন শক্তি নাই, আপনার ঋণ পাশ করাইতে পারে।
এহেন অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারী জরিনা তার স্বামীসহ অফিসে গিয়ে মাঠকর্মীর আচরণ ব্যাপারে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমানকে জানান। এসময় ম্যানেজার বলেন, মাঠকর্মী ঋণ দিতে চাইলে ঋণ হবে। অন্য কোন উপায়ে ঋণ দেওয়ার সুযোগ নেই বলে সাফ জানান ম্যানজার। এঅবস্থায় সঞ্চয়ের সাড়ে ১৬ হাজার টাকা ফেরৎ চান জরিনা। এতে ম্যানেজার বিভিন্ন ধরণের তালবাহানা করে এবং এখন ব্যস্ত আছি বলে পরে দেখা করতে বলে হেও প্রতিপন্ন করে তাড়িয়ে দেন ম্যানেজার।
এনিয়ে জরিনার স্বামী আলতাব বলেন, প্রায় ৪ বছর ধরে আশা সমিতি করে আসছি আমরা। আমাদের এতো বছরেও একটিও কিস্তি খেলাপি নেই। আমি শহরে রিক্সা চালিয়ে সপ্তা আসার আগেই বিকাশে কিস্তির টাকা পরিশোধ করি। এবারের ঋণের টাকা দিয়ে অটো রিক্সা ক্রয় করবো। ইতোমধ্যে রিক্সা বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা বায়নাও দিয়েছি। কিন্তু টাকার অভাবে অটো রিক্সা ক্রয় করা যাচ্ছে না। আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে বাঁকী টাকা দিয়ে রিক্সা না নিলে ১০ হাজার টাকা ফেরৎ দেবে না বলে জানাচ্ছে অটো বিক্রেতা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঋণ পাওয়া না গেলে আমাদের পরিবারে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এঅবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জুরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আলতাব ও তার স্ত্রী জরিনা খাতুন।
এ ব্যাপারে মাঠকর্মী রাশেল বলেন, বকসিশ নয় ঋণের খরচ চাওয়া হয়েছে। অফিসের বিভিন্ন সমস্যায় ঋণ পেতে হয়রানি ও বিড়ম্বনা হতেই পারে সদস্যদের তা মেনেই সমিতি করতে হবে। অন্যথায় সমিতি করা লাগবে না বাদ দিতে হবে বলে এই মাঠকর্মী দম্ভোক্তি করেন।
ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, জরিনা নামের ওই সদস্যের ধর্য্য নেই। আমি তাকে সমিতি থেকে বাদ দিতে বলেছি। সমিতির নিয়ম অনুযায়ী সঞ্চয়ের টাকা ফেরৎ দিতে সময় লাগবে বলে জানান ম্যানেজান।
এনিয়ে তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয়পক্ষকে নোটিশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বরত মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানওয়ার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোহানুল হক পারভেজ / দৈনিক সংবাদপত্র

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here