ঠাকুরগাঁওয়ে লকডাউনে বিপাকে ঘরমুখো মানুষ

0
33
0 Shares

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ ঠাকুরগাঁওয়ে লকডাউনে বিপাকে পড়েছে দুর দরান্ত থেকে আসা ঘরমুখো সাধারণ মানুষ ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার সংক্রমণ রোধে ৭ দিনের লকডাউন এর আজ চতুর্থ দিন।সংক্রমণ পরিস্থিতি অবনতির কারণে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। বৃহস্পতি বার সকাল ৬টা থেকে ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত লকডাউন চলবে। জেল শহরের প্রধান প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

কিছু মানুষ বাড়ির বাইরে রাস্তায় বের হলেও পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়।খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। দূর পাল্লার যান চলাচল করতে দেখা যায়, দূর থেকে আসা যাত্রিরা গাড়ি থেকে নেমে রিক্সা, ভেন না পেয়ে বিপাকে পড়ে যায়। রহিমা বেগম জানান, আমি দিনাজপুর থেকে বাসার উদ্দেশ্যে আসলাম কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে বাড়ি যাওয়ার মতো কনো ব্যবস্থা পাচ্ছিনা। লকডাউন বিধিনিশেধে বলা হয়, সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান ও চায়ের দোকান বন্ধ থাকবে।

তবে কাঁচাবাজার, মাছের বাজার ও ফলের দোকান খোলা থাকবে। এ ছাড়া জেলার পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউ নিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সাপ্তাহিক হাট ও গরুর হাট। জেলার ভেতরে ও আন্ত জেলা ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন, ইজিবাইক, থ্রি-হুইলারসহ সব যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা, কৃষিপণ্য, খাদ্য সরবরাহ ও সংগ্রহ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস,

টেলিফোন, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা এর আওতাবহির্ভূত। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার (২৬ই জুন) এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ(পিসিআর টেস্ট) দিনাজপুর ;সিডিসি (জিন এক্সপার্ট টেস্ট) ; সদর হাসপাতাল এবং উপ জেলা হাসপাতাল সমূহ (এন্টিজেন টেস্ট), ঠাকুরগাঁও হতে প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলায় নতুন ১২০ জন ( সদর উপজেলা-৫৬ জন ; রানীশংকৈল-১৭ জন; বালিয়াডাঙ্গী-২৪ জন,

পীরগঞ্জ-৯ এবং হরিপুর-১৪ জন) করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মোট ২৬৫ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে,করোনা সংক্রমিত ০৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুঃ সদর উপজেলা -১ জন (৮০বছর, পুরুষ ), রানীশংকৈল-২ জন (৬৬ এবং ৭০ বছর পুরুষ ), পীরগঞ্জ-১ জন (৪৮ বছর,পুরুষ), বালিয়াডাঙ্গী-১ জন (৩৫ বছর, পুরুষ)। পূর্বের রিপোর্টসহ ঠাকুরগাঁও জেলায় সর্বমোট করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২৯৬৯ জন, যাদের মধ্যে ১৭২২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং মৃত্যু ৭২ জন।

সরকারি নির্দেশাবলী ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। মাস্ক পরুন, সুরক্ষিত থাকুন। ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন মো. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে। জেলার করোনা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক খারাপ। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ৩০ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা জেলায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোঃ জুনাইদ কবির

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here