টাকার জন্যই বন্ধুর স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করেছিল আমির হোসেন

0
36
0 Shares

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গত ১৮ই তারিখে হবিগঞ্জের বাহুবল থানাধীন পুটিজুরি ইউনিয়নের দিগম্বর বাজারের পাশে নিজ ঘরেই নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন সঞ্জিতের স্ত্রী অঞ্জলি মালাকার ও তার ৮ বছর বয়সী মেয়ে পুজা রানী দাস। গলাকাটা নিথর দেহ দুটি পড়েছিল ঘরের মেঝোতে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত সার্কেল এর নেতৃত্বে বাহুবল থানার পুলিশের একটি টীম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ডিআইজি সিলেট রেঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাটে নামে পুলিশ, তাদের সফল অভিযানে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে র মুল রহস্য বাহির করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারী ছিল, নিহত অঞ্জলি মালাকারের স্বামী সঞ্জিতের বন্ধু আমির হোসেন যে একই বিল্ডিংয়ের দুই তলায় থাকতো। পরিকল্পনায় তার সাথে ছিল আরও ছিল ২ জন হান্নান মিয়া ও মনির হোসেন। ঘটনার রাতে আনুমানিক ১২ঃ৩০ ঘটিকার দিকে আমির সহ বাকি ২ জন মিলে আমিরের ঘরে বসে ইয়াবা সেবন করে এবং পরিকল্পনা করে

সঞ্জিতের ঘরে রাখা ২ লক্ষ টাকা তারা চুরি করে নিয়ে যাবে। এর আগে আমির সঞ্জিতের সাথে মোবাইলে কথা বলে নিশ্চিত হয় যে সঞ্জিত ব্যবসায়িক কাজে সুনামগঞ্জ অবস্থান করছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে তারা বাসার বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বাসার ছাদ থেকে নীচ পর্যন্ত একটি রশি ঝুলিয়ে রাখে।খুনি, আমির হোসেন পরিকল্পনা মোতাবেক, অঞ্জলি মালাকারকে রাত আনুমানিক ১ঃ৩০ মিনিটের সময় কল দিয়ে বলে যে তার বাসায়, ডাকাত দল ঢুকে টিভি সেলাই মেশিন সহ মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।

অঞ্জলি নিচে এসে তা যেন দেখে যায়। কিন্তু অঞ্জলি তার ৮ বছরের মেয়েকে একা রেখে আসতে অপারগতা জানালে আসামি আমির হোসেন অঞ্জলির বাসার দরজার সামনে গিয়ে কল দেয় এবং তার সাথে তার বাসায় যেতে বলে। স্বামীর বন্ধু ভেবে সে বিশ্বাস করে দরজা খোলে। কিন্তু দরজা খোলার সাথে সাথেই আমির হোসেন অঞ্জলির মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে, অন্য ২ জন তার দুই হাত ধরে ভিতরের রুমে নিয়ে মেঝেতে ফেলে বুকে চাপ দিয়ে রাখে। অঞ্জলি যখন জোরে চিৎকার করে তখন তারা চাকু দিয়ে উপুর্যুপরি তার পেট,

গাল এবং গলায় কোপাতে থাকে। তার চিৎকার শুনে ৮ বছর বয়সী মেয়ে পুজা রানী ঘুম থেকে উঠে এগিয়ে আসলে নরপশুরা, তারও গলা কেটে হত্যা করে। মা এবং মেয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ মেঝেতে রেখে তারা আল মারিতে রাখা ২ লক্ষ টাকা ও কিছু স্বর্নালঙ্কার নিয়ে দোতলায় আমির হোসেনের ঘরে চলে যায়। সেখানে গিয়ে ওয়াশরুমে রক্ত মাখা হাত মুখ ধুয়ে। ঘটনা অন্যদিকে মোড় দেয়ার জন্য নাটক সাজায়। আমির হোসেন নিজেই তার ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে, আলমিরা ভাংচুর করে এবং তার বাম হাত চাকু দিয়ে

কাটে যাতে মনে হয় ডাকাতদল তাকে আহত করে তার রুমের জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর আসামি হান্নান ও মনির হোসেন চলে গেলে আমির হোসেন তার বাসা থেকে নেমে বাসার নিচে ডোবার পাশে অজ্ঞান হওয়ার ভান ধরে শুয়ে থাকে। তারপরও শেষরক্ষা হয়নি তাদের, আটকের পর, পুলিশের জিজ্ঞেসাবাদ, খুনি আমির হোসেন খুনের বর্ণনা দেয়। পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং এ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here