জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ৭ম শ্রেণীর এক ছাত্রী কে ধর্ষণ

0
55
0 Shares

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে গ্রাম্য শালিসে এক মেয়ের (১৩) ইজ্জতের মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে সেই মূল্যের একটি টাকাও দেওয়া হয়নি কিশোরীর পরিবারকে। ছেলেটির পরিবার প্রভাবশালী হওয়াই ঘটনাটি মিমাংশা করার জন্য স্ট্যাম্পে লেখাপড়াও হয়েছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরে এ ঘটনা ঘটে।



অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রানেল মন্ডল (২৫) পৌরসভার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে ওই গ্রামের মৃত মন্টু মন্ডলের ছেলে। রফিকুল ইসলাম রানেল ওই কিশোরীকে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। এরপর তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার দৈহিক সর্ম্পক স্থাপন করেছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। ঘটনাটি জানা জানির পরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এক শালিসী বৈঠকে রফিকুল ইসলামের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন গ্রামের মাতবররা।



কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম রানেলের সাথে সপ্তম শ্রেণি তে পড়ুয়া এক কিশোরীর সাথে গত (৩-৪ মাস) পূর্বে থেকে প্রেমের সর্ম্পক স্থাপন করে। গত চার মাস পূর্বে থেকে রফিকুল ইসলাম বিয়ের কথা বলে একাধিকবার দৈহিক সর্ম্পক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে গত বুধবার রাতে রফিকুল ইসলাম ওই কিশোরীকে মুঠোফোনে তাদের বাড়ি থেকে ডেকে নেয়।



এরপর রফিকুল ওই কিশোরীকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্ত রফিকুল কিশোরীকে তার কাছে রেখে সারা রাত দৈহিক সর্ম্পক স্থাপন করে ভোরে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।এদিকে ওই কিশোরীকে রাতে বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখোজি করেন। ভোরে যখন কিশোরী বাড়িতে আসেন তখন পরিবারের চাপের মুখে পড়ে কিশোরী সব খুলে বলেন। এরপর ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পরে।



তখন কেশবপুর গ্রামের পৌরসভার কাউন্সিলর, ফেরদৌস মন্ডল, টিটু মন্ডল, লিটন মন্ডল, বাহাদুর ঘটনাটি নিয়ে গ্রামে শালিসী বৈঠকে বসে। ওই শালিসে রফিকুল ইসলাম রানেলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতবররা। এবং সেখানে স্ট্যাম্পে লেখাপড়াও করে নেয় মাতবররা। তবে ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও জরিমানার এক টাকাও ওই কিশোরীর পরিবার পাননি বলে অভিযোগ উঠে।



কেশবপুর গ্রামের লিটন হোসেন বলেন, শলিসে গ্রামের অনেক লোকের মধ্যে আমিও আমি উপস্থিত ছিলাম। টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি এটা ভূল কথা হয়তবা প্রসেস করতে একটু নিতে পারে। দিতে চাইলে অবশ্যয় দিতে হবে না দিয়ে যাবে কোথায়। আর পুরো ঘটনাটি ডিল করছেন কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম। কিশোরী বলেন, রফিকুল ইসলামকে আমি ভাই বলে ডাকতাম। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক তৈরি হয়।



কিছুদিন আগে আমার মামার বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গাতে আমাকে ডেকেছিল। সেখানে আমি গিয়েছিলাম, তখন সে আমার সাথে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। এর পর গত বুধবার দিবাগত রাতে আমাকে ফোন করে ডাকে। এরপর রফিকুল ইসলাম আমাকে এগিয়ে নিতে আমার বাড়ির কাছে আসে, তখন আমি ও (রফিকুল ইসলাম) সাথে তাদের বাড়িতে যাই।



বাড়িতে যাওয়ার পরে রফিকুল আমাকে সারা রাত ধরে শারীর সর্ম্পক স্থাপন করে। ভোরে সে আবার আমার বাড়ির কাছে পৌছে দেয়। পরের দিন সকালে (গত বৃহস্পতিবার) পরিবারের চাপে আমি সব খুলে বলি। তখন ঘটনাটি জানা জানি হওয়ার পরে বাবা আমাকে বাড়িতে থাকতে দিচ্ছে না। এখন আমি রফিকুল ইসলামকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু সে আমাকে বিয়ে করবে না। এখন মরন ছাড়া আমার কোন গতি নাই।



কিশোরীর ফুপু বলেন, রাতে আমাদের মেয়ে বাড়িতে না থাকায় আমরা অনেক খোঁজাখুজি করি। ভোরে সে বাড়িতে ফিরলে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে জানায় রফিকুল ইসলাম রানেল নামে এক ছেলের বাসায় সে ছিল। এর পর আস্তে আস্তে ঘটনাটি জানা জানি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শালিস বসে সেখানে রফিকুলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু আমরা কোন টাকা পাইনি।



অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রানেলকে খোঁজ নিয়ে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছোট ভাই রাহেল বলেন, ঘটনার পর থেকে ভাইয়ের ফোন বন্ধ রয়েছে। শালিসে আমার ভাইয়ের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই টাকা এখনও দেওয়া হয়নি। আমরা এক মাস সময় নিয়েছি। স্থানীয় ১০-১৫ জন গ্রামবাসীরা জানান, রফিকুল ইসলাম মেয়েটির সর্বনাশ করেছে।



গ্রামের কয়েকজন মাতবররা শালিস ডেকে ছেলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। শুনছি ওই টাকার এক টাকাও মেয়ের পরিবার পাননি। ছেলে এখন গা ঢাকা দিয়েছে। কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, শালিসে রফিকুল ইসলাম রানেলের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু টাকাটা পরিশোধ করতে তারা কিছুদিন সময় নিয়েছেন।



এই ব্যপারে আক্কেলপুর থানা ওসি আঃ লতিব জানান আমাদের নিকট এ ধরনে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে আমরা তার ব্যবস্থা নিবো।



আহসান হাবীব আরমনা / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ