জগন্নাথপুরে বেড়িবাধ কাজ নিয়ে চলছে প্রতিযোগিতা

0
271
ফাইল ছবি

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে শেষ প্রান্তে রয়েছে বেড়িবাধ কাজ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বেড়িবাধ কাজের সরকারি ভাবে বেধে দেয়া নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হবে। তাই নির্দিষ্ট মেয়াদের আর মাত্র ৬ দিন বাকি আছে। এর মধ্যেই কাজ শেষ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পিআইসিরা। প্রত্যক পিআইসি তাঁর নিজের কাজ আগে শেষ করতে চান। এ নিয়ে হাওরে রীতিমিতো চলছে প্রতিযোগিতা। যে কারণে দ্রুত এগিয়ে চলছে বেড়িবাধ কাজ। তবে অধিকাংশ পিআইসিগণ নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারলেও অনেকে পারবেন না বলে স্থানীয়রা জানান।

২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রাণীগঞ্জ কলেজ এলাকায় পিআইসি কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য তেরাব মিয়ার বাধে কাজ চলছে। নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাধের ২০নং পিআইসি এলাকায় দ্রুত চলছে বাধের কাজ। অনেক শ্রমিক এক সাথে কাজ করছেন। কাজের তদারকি করছেন উক্ত পিআইসি কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সুলতান মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্য টাকন মিয়া। এ সময় তাঁরা বলেন, আমাদের ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪০০ মিটার কাজের মধ্যে ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সরকারি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ হবে। বেতাউকা গ্রাম এলাকায় ১৮নং ও ১৯নং পিআইসি এলাকায় কাজ প্রায় শেষ প্রান্তে রয়েছে। তবে ১৬ ও ১৭নং পিআইসি এলাকায় কাজ চলছে।

প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব কাজের দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, আশা করছি নির্দিষ্ট মেয়াদের আগেই কাজ হয়ে যাবে। ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩নং পিআইসির ৬১৫ মিটার কাজ পাওয়া পিআইসি কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন, ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৪নং পিআইসি কমিটির সভাপতি কামাল হোসেন ও ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫নং পিআইসির ৫১৮ মিটার পাওয়া পিআইসি কমিটির সভাপতি কানন মিয়ার এলাকার কাজ প্রায় শেষ প্রান্তে রয়েছে। তাঁরা বলেন, আগামী ২/৩ দিনের মধ্যেই আমাদের পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া ১০নং পিআইসি কমিটির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮৪৮ মিটার কাজ পাওয়া উক্ত পিআইসি কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সুজাত মিয়া বলেন, আমার কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু অন্যান্য পরিচর্চার কাজ রয়েছে। তাও সময়ের আগেই হয়ে যাবে। ১১নং পিআইসি এলাকায় এখনো কাজ চলছে। ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭২০ মিটার কাজ পাওয়া পিআইসি কমিটির সভাপতি আবদুল শহিদ বলেন, আমি কাজ অনেক পরে পেয়েছি। যে কারণে কাজ তুলতে বিলম্ব হচ্ছে। তবুও সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে প্রাণপন চেষ্টা করছি। তবে ১২নং পিআইসি এলাকায় এখনো অধিকাংশ কাজ বাকি রয়েছে। নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হবে না বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। যদিও ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৮৩ মিটার কাজ পাওয়া পিআইসি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান চৌধুরী দাবি করেন তিনি পরে কাজ পেয়েও দ্রুত কাজ করছেন।

নিকেশ বৈদ্য / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here