জগন্নাথপুরে বেড়িবাঁধের জন্য জমি দিলেন সাবেক চেয়ারম্যান মজলুল হক

0
71
0 Shares

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিকল্প বেড়িবাঁধের জন্য জনস্বার্থে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের মালিকানা জমি দান করলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ মজলুল হক। এতে শঙ্কামুক্ত হলেন স্থানীয়রা। জমি দান করে সহযোগিতা করায় সাবেক চেয়ারম্যান মজলুল হক ও বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের অংশ হিসেবে জগন্নাথপুর উপজেলার

রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রাম এলাকায় প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০নং পিআইসি প্রকল্পের মাধ্যমে বেড়ি বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ করা হয়। এ প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য তেরাব মিয়া ইতোমধ্যে প্রায় শতভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন। তবে এ প্রকল্পের অধীনে সাবেক চেয়ারম্যান মজলুল হকের বাড়ির সামনে থাকা কয়েক শত ফুট বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুশিয়ারা নদী ভাঙনের কবলে থাকায় যে কোন মূহুর্তে বাঁধের এ অংশটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে ফসলহানির আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এছাড়া এ বাঁধটি বর্তমানে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে অত্র অঞ্চলের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। বাঁধের এ অংশটি ভেঙে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই এখানে জরুরী ভিত্তিতে বিকল্প বাঁধ নির্মাণের জন্য জনগণের দাবি জোরালো হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য তেরাব মিয়ার প্রচেষ্টায়, প্রশাসনের আন্তরিকতায় ও সাবেক চেয়ারম্যান মজলুল হকের সহযোগিতায় চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছন দিয়ে বোরো জমিতে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বিকল্প আরেকটি নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

এ বাঁধটি নির্মাণ হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ বিষয়ে ৩০নং পিআইসি কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য তেরাব মিয়া জানান, এ বিকল্প বাঁধটি নির্মাণ হওয়ায় মানুষ শঙ্কামুক্ত হয়েছেন। কারণ চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন বাঁধের অংশটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কুশিয়ারা নদী ভাঙনে যে কোন মূহুর্তে ভেঙে হাওরের ফসল হানি সহ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তাই বিকল্প বাঁধ নির্মাণ অতীব জরুরী হয়ে পড়েছিল। অবশেষে বিকল্প বাঁধটি নির্মাণ হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরে আসে।

এতে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ শতক মালিকানা ধানি জমি জনস্বার্থে দান করেছেন রাণীগঞ্জ ইউনিয়নে র সাবেক চেয়ারম্যান মজলুল হক ও প্রায় ৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছেন প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে কাজ শেষ করলেও এখনো আমি কোন বিল পাইনি। তাই পাওনাদারদের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এমতাবস্থায় দ্রুত বিল প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। এ সময় বাঁধের মাটি কাটার ঠিকাদার আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারি প্রকৌশলী (এসও) হাসান গাজী জানান, ৩০নং পিআইসি প্রকল্পের অধীনেই এ বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি যথা নিয়ম অনুযায়ী এ প্রকল্পের বাকি বিলের সাথে বিকল্প বাঁধের অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here