গাইবান্ধার বাদিয়াখালীতে পুরাতন সেতু দিয়ে চলাচলে বাড়ছে প্রাণের ঝুঁকি

0
48
0 Shares

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিঃ মিঃ দুরে সদর উপজেলার আওতায় বাদিয়াখালী ইউনিয়ন। বাদিয়াখালী ইউয়িনের মধ্যে পুরাতন বাদিয়াখালী বাজার সংলগ্ন গাইবান্ধা-সাঘাটা রোডের উপর প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত হয় একটি সেতু। ১৯৬৮ সালে আলাই নদীর উপর নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন থেকে মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।



সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার ভারি যানবহন এবং গণ পরিবহন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে। একা ধিকবার গণমাধ্যমের নজরে আসলেও বিষয়টি নিয়ে যেন কারো মাথাব্যাথা নেই। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই ফুলছড়ি উপজেলায় যাবার পথে উদাখালী ইউনিয়নে একই ধরনের একটি বেইলি সেতু ভেঙ্গে পড়ে এক ট্রাক চালক নিহত হন।


গত রবিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাদিয়াখালী ইউনিয়নে আলাই নদীর উপর নির্মিত সেতুটি ফাটল ধরায় স্টীলের পাটাতন জোড়াতালি দিয়ে ইটের পুরাতন পিলারের উপর বেইলি সেতু হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে সেই ফাটল স্থানে মরিচা পড়া রড রেরিয়ে আসায় যেকোন মহুর্তে ধসে যেতে পারে সেতুটি। আর তাতে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।


প্রায় ৫০ বছর আগে এই সেতুটি নির্মানের দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদার মো. তোজাম্মেল হক প্রধান জানান, ৫০ বছর আগে পাকিস্তান আমলে নির্মিত সেতুটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পথচারীরা প্রাণের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রতিটি মহুর্ত। এই সেতুটি সরিয়ে নতুন সেতু স্থাপন জরুরী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, কার্গো, টলি, কাঁকড়া, অটো, রিকসা, মোটরসাইকেল সহ


বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। সেতুটি অতি সরু হওয়ায় এক প্রান্ত থেকে যানবাহন প্রবেশ করলে অপর প্রান্তের যানবহনকে অনেক সময় দাড়িয়ে থাকতে হয় । ফলে প্রায়ই যানজট লেগে থাকতে দেখা যায়। এই রাস্তা দিয়ে সাঘাটা এবং ফুলছড়ি উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ জেলা শহরে জরুরী প্রয়োজনে যাতায়াত করে থাকে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা না হলে মানুষ চরম বিপাকে পড়বে।


বাংলাদেশ সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রীজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন জানান- আলাই নদীর উপর সেতুটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতায় হলেও বর্তমানে এটি ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রীজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। জ্যাইকা এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সেতুটি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে


এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিটিসিএল এটির নির্মাণ কাজ করবে। নতুন নির্মিত সেতুর দৈর্ঘ ধরা হয়েছে ২১৩ ফুট আর প্রস্তু হবে ৩৩ ফুট। জমি অধিগ্রহনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ সেতুর মুল কাজ শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।


এলাকাবাসীর দাবী সেতুটিতে যানচলাচলের জন্য যেহেতু প্রতিটি মহুর্ত ঝুঁকিপূর্ণ তাই সকল বাধা-বিপত্তির সমাধান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শুরু করে সাধারণ মানুষকে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।


সফিকুল ইসলাম রাজা / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ