করোনাকালেও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা

0
112
করোনাকালেও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা
করোনাকালেও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা

হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ বৈশিক মহামারী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব না কমলেও কেটে গেছে মানুষের ভয়ভীতি, দেশে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছেন ত্রিশের অধিক মানুষ এবং আক্রান্ত হচ্ছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ, তারপরেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে চলাফেরা করার মত দৃশ্য সবসময় দেখা যায় সিএনজি চালিত অটোরিকশায়।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রতি দুই আসনে একজন যাত্রী বহনের সিদ্ধান্ত থাকাকালীন সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করেছিলো গনপরিবহন, এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাড়া কমিয়ে আগেরমত স্বাভাবিক করে পূর্বেকার ভাড়ায় যাত্রী বহনের দাবী উঠে আসে, তাই গনপরিবহনের পূর্বেকার ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার পর যাত্রীদের স্বস্তি মিললেও দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার অনিশ্চয়তা।

সিএনজি চালিত অটোরিকশার কাগজপত্রে যাত্রীর আসন সংখ্যা তিনজন হলেও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর অটো রিকশা গুলোতে অতিরিক্ত আসন সংযোজন করে পাঁচজনের অধিক যাত্রী বহন করছে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ট্রাফিক পুলিশকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে প্রতিটা সিএনজি পাঁচজন করে যাত্রী নিচ্ছে।চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কের নতুনপাড়া থেকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার রাউজান, ফটিকছড়ি সহ রাঙ্গামাটি

ও খাগড়া ছড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করছে এ সিএনজি চালিত অটোরিকশা গুলো। চট্টগ্রামের হাট হাজারীতে একটিমাত্র সড়ক রয়েছে যেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী সেবা দিলেও যাত্রীদের অন্যায় আবদার থাকে পাঁচজন যাত্রী নেয়ার জন্য, সড়কটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। এই সড়কে বিশ্ব বিদ্যালয় খোলা থাকাকালীন সময়ে পাঁচজন করে যাত্রী নিলেও করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

থাকায় সিএনজি সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজন করে যাত্রী নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থী দের আনাগোনা রয়েছে যার ফলে শিক্ষার্থীরা সিএনজি চালকদের উপর চাপসৃষ্টি করে বলেন সরকার সবকিছু স্বাভাবিক করে দিয়েছে আপনারা তিনজন যাত্রী নিয়ে ভাড়া দশ টাকা আদায় না করে পাঁচজন যাত্রী বহন করে জনপ্রতি ছয় টাকা ভাড়া নিবেন। এ বিষয়ে চবি প্রক্টর রবিউল হাসানের সাথে সিএনজি চালিত

অটোরিকশা সংগঠনের আলোচনায় আগের নিয়মে জনপ্রতি ৬টাকা করে পাঁচজন যাত্রী নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সিএনজি সমিতির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম। আবার চালকদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন আমাদের গাড়ীর কাগজপত্রে উল্লেখ আছে যে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চালক সহ চারজন বহন করিবে তার অধিক হলে আসন সংযোজন ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মামলা নিতে হবে,

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালে যাত্রী সংকটের কারণে আমাদের রোজগার কমে গেছে, করোনাকালে লকডাউনের সময় আমাদের খুবই দুর্দশাপন্ন দিন কেটেছে ফলে ডাল ভাত খেয়ে দিন পার করছি তার মধ্যে ধারদেনায় ডোবে গেছি। চবি সড়কের সিএনজি চালকরা আরো বলেন যে, আমরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপদে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে লকডাউনের শুরু হইতে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচজন যাত্রীর

পরিবর্তে তিনজন যাত্রী নিয়েছি এবং পাঁচজন যাত্রীর থেকে যেই ভাড়া নিতাম সেই ভাড়া তখন তিনজনের কাছথেকে নিতাম, ৫জন যাত্রী নিলে জনপ্রতি ৬টাকা করে ৩০টাকা ভাড়া হয়, আর তিনজন যাত্রী নিলে জনপ্রতি ১০টাকা করে হলেও ৩০টাকা হয়, তাহলে আমাদের অপরাধ কোথায়? এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী বহনে করোনায় সংক্রমণের শঙ্কা ও দুর্ঘটনা ঘটবার সম্ভাবনা থাকে, প্রশ্ন থাকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাই

তিনজনের অধিক যাত্রী বহনে সড়ক ও পরিবহন আইনে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও চবি প্রক্টর কিভাবে পাঁচজন যাত্রী বহনের অনুমতি প্রদান করেন? হাটহাজারী মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত আসন সংযোজন করে পাঁচজন যাত্রী কেন নিয়েছে জানতে চাইলে মিলন (২৮) নামে এক সিএনজি চালক বলেন, এই রোডে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সিএনজি চালিত অটোরিকশা দিয়ে লোকাল ভাবে যাত্রী সেবা দিয়ে কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন প্রশাসন বা সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা ভাড়ার তালিকা পাইনি,

আমরা যদি তিনজন যাত্রী নিই তাহলে কি যাত্রীরা আমাদের পাঁচজনের ভাড়া দিবে? দিবে না! করোনার ভয়ভীতি যাত্রীদের কাছে না থাকলে আমরা কি করবো? শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আমাদের ন্যায্য ভাড়া দিলে আমাদের কোনরকম আপত্তি থাকবেনা। আমরা গাড়ীর কাগজের লেখা অনুযায়ী তিনজন করে যাত্রী নিবো তবে তার আগে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়ার তালিকা দেয়ার দাবী জানান প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সিএনজি সংগঠনের নিকট।

মোঃ সাহাবুদ্দীন সাইফ / দৈনিক সংবাদপত্র 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here