কক্সবাজার জেলা ওয়াক্‌ফ উন্নয়ন কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত

0
34
0 Shares

কক্সবাজার সংবাদদাতাঃ দেশে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির মোট পরিমাণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিভিন্ন বেসরকারি হিসাবে যত সংখ্যক ওয়াক্‌ফ এস্টেট ও ভূ-সম্পত্তির কথা জানা যায়, তার আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশের কম সরকারি ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের অফিসে নিবন্ধিত আছে। হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, বর্তমানে নিবন্ধিত এস্টেট সারাদেশে ২১ হাজার ৯৩৯টি। এগুলোর অধীনে জমি আছে চার লাখ ২৪ হাজার ৫৭১ দশমিক ৭৪ একর। অন্যান্য সূত্র মনে করে, দেশে নয় লাখ একরের মতো ওয়াক্‌ফ জমি আছে।

মধ্যযুগে উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ও পরে রাজত্ব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ দেশে নবাবরা এবং বহু বিত্তবান মুসলিম বহু সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ করেছেন। যে কোনো মুসলিম নিজের সম্পত্তির স্বত্ব পরিত্যাগ করে দান করতে পারেন, যে সম্পত্তি থেকে আহূত আয় তার ইচ্ছামতো নির্দেশিত পথে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় হতে পারে। ওই সম্পত্তি তিনি নিজে এবং তার ওয়ারিশানরাও ফিরিয়ে নিতে পারবেন না। ট্রাস্ট বা কমিটি দ্বারা পরিচালিত এস্টেটের আয় থেকে মাদ্রাসা, মসজিদ, এতিমখানা, হাসপাতাল প্রভৃতি পরিচালিত হয়।

বেহাত হয় বলে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় স্বার্থাল্প্বেষী গ্রুপগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগেই আছে। কক্সবাজার জেলা ওয়াকফ্ উন্নয়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ ওয়াকফ্ এস্টেট সমূহের মোতাওয়া ল্লীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার অরুণোদয় মিলনায় তনে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয় ৷ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফ্ প্রশাসক আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ, এন.ডি.সি (অতিরিক্ত সচিব)।

জেলা প্রশাসক বলেন, যে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি পবিত্র ধর্মবোধ থেকে দান করা হয় জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে, তা যে ব্যাপকভাবে বেদখল, আত্মসাৎ ও লুটপাটের কবলে পড়তে পারে- তা সহজে বিশ্বাস হওয়ার নয়। কিন্তু দেশে ওয়াক্‌ফ এস্টেটগুলোর ক্ষেত্রে তা-ই ঘটছে এরকম অনেক অভিযোগ আমি পেয়েছি ৷ সম্পত্তি দখল, বেহাত ও সম্পত্তির আয় ক্রমাগত আত্মসাৎ হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। কক্সবাজারের ওয়াফা পরিদর্শক ডি এম খালেদ হোসেন বলেন,

সরকারি ওয়াফা জমি এলাকায় কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই এসব উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে তা দখলমুক্ত করা হবে। দিনব্যাপী এ কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার ওয়াকফ প্রশাসক বলেন, ওয়াকফ জমি অন্য কেউ এসে নিজের বলে দাবি করছেন কিংবা গায়ের জোরে দখল করে নিতে চাইছে বা কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে তাদের বিরোদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সাথে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি ৷

হাফিজুর রহমান খান

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here