এসপির নামে চাঁদাবাজি দুই কর্মকর্তা প্রত্যাহার

0
51

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞার নামে ২৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবির) দুই কর্মকর্তাকে শাস্তিম‚লক বদলি করা হয়েছে। কর্মকর্তা দুইজন হলেন ডিবি পুলিশের সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন ও উপ-পুলিশ পরিদর্শক শওকত আলম। তাদেরকে আজকেই বগুড়া থেকে ছাড়পত্র দিয়ে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআর এফ) এ বদলি করা হয়েছে। এছাড়া এসআই শওকতকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

১৪ই জুলাই পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আলী হায়দার চৌধুরী কে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির বাকি সদস্যরা ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ ও কোট পুলিশ পরিদর্শক। ওই কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিম‚লক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছে পুলিশ সুপার। জানা যায়, এ বছরের ২৭ই মে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা সদর উপজেলার নুনগোলা ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের

মাস্টার বিড়ি ফ্যাক্টরিতে যান। সেখানে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোল মজুদ আছে বলে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হেলালকে ডেকে আনেন তারা। তবে হেলাল সেগুলো বৈধ দাবি করে। কিন্তু ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তা ব্যান্ড রোলসহ হেলালকে গ্রেফতার করতে চায়। একপর্যায়ে উপপুলিশ পরিদর্শক শওকত হেলালকে জানায় এসপি স্যারের তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান হয়েছে। স্যারকে দুই কোটি টাকা না দিলে মামলা দেওয়া হবে। পরে হেলাল ২৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। যার ৯ লাখ টাকা রাতে দুই কর্মকর্তাকে হেলাল দিয়ে দেয়।

বাকি ১৬ লাখ টাকা এক সপ্তাহ পর দেওয়ার কথা থাকলেও ফ্যাক্টরির মালিক নানা রকম তালবাহান শুরু করে।
এদিকে সম্প্রতি পুলিশ সুপারের বদলির আদেশ হলে পুলিশ পরিদর্শক তুহিন ও উপপুলিশ পরিদর্শক শওকত হেলালের ওপর চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে হেলাল তার এক পরিচিত জনের মাধ্যমে ১৩ই জুলাই বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানায়। পুলিশ সুপার ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক হেলালকে ডেকে নেয় তার অফিসে। বিস্তারিত জানার পর হেলালের কাছে থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে।

অভিযোগের পর ১৪ই জুলাই সন্ধ্যায় হেলালকে ৯ লাখ টাকা ফেরত দেয় পুলিশ পরিদর্শক তুহিন ও উপ পুলিশ পরিদর্শক শওকত। সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন এ প্রতিবেদক-কে বলেন, অভিযোগ হয়েছে এটা সত্য তবে ঘটনাটি সত্য নয়। তদন্ত চলছে ,আশা করি প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ এ প্রতিবেদক-কে বলেন, আমরা তদন্তে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জিএম মিজান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here