অবশেষে মুহাতামিমের পদ থেকে আল্লামা শফির অব্যাহতি

0
143
অবশেষে মুহাতামিমের পদ থেকে আল্লামা শফির অব্যাহতি
অবশেষে মুহাতামিমের পদ থেকে আল্লামা শফির অব্যাহতি
0 Shares

হাটহাজারী প্রতিনিধিঃ হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী স্বেচ্ছায় হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহতামিম পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বৈঠকের শূরার সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ১৭সেপ্টেম্বর রাতে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হটহাজারী মাদ্রাসার আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কক্ষে মজলিসে শুরার বৈঠকে তিনি মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন।

মজলিসে শুরা অব্যাহতি গ্রহণ করে আল্লামা শফীকে সদরুল মুহতামিম হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। শুরার সিদ্ধান্তের পর আল্লামা আহমদ শফী শারীরিক ভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এতে আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ আপত্তি জানায়। তাই প্রশাসন ও ছাত্ররা মাদ্রাসার সামনে উভয় পক্ষে মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও পরে

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্ম কর্তার সাথে কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এরআগে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী তিনি মাদরাসার মুহতামিম পদ ছেড়ে দেন। এ ছাড়াও মাওলানা আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষা পরিচালকের পদ থেকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার সহ বুধবার রাতে গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত বলবত রেখেছে শুরা।

একইসাথে মাওলানা নুরুল ইসলামকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সময় শুরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফী, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা নোমা ন ফয়েজি, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতী নুর আহমদ, মাওলানা শোওয়াইব, মাওলানা ওমর, মওলানা কবির আহমদ, মাওলানা আহমদ দিদার, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী।

এর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যায় হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যায়। মাদ্রাসা সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের। মাদরাসার সবগুলো ফটকে ছিল তালা দেওয়া, বন্ধ ছিল ক্লাস। বাইরে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্য ক পুলিশ। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে।

গত বুধবার ১৬ই সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে বেশকিছু দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন হাটহাজারী মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা মাদ্রাসার সব কটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। মাওলানা আনাস মাদানীসহ কয়েক জন শিক্ষ কের কক্ষে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মঈনুদ্দীন রুহীকে মাদ্রাসার ভেতরে পেয়ে মারধর করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আহত অবস্থায় তিনি এখন চট্টগ্রামের শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানা গেছে।ছাত্রদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে বুধবার রাতে মাদ্রাসার শূরা কমিটি মাওলানা আনাস মাদানীকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষাসচিব, মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর ছেলে।

সেই সঙ্গে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক। বিক্ষোভের শুরু থেকেই ছাত্ররা মাদ্রসার মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিলে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় মাদ্রাসার বাইরে গেটের সামনে অবস্থান নেন র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত হাটহাজারী খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও হেফাজত নেতাকর্মীরা কঠোর অবস্থানে ছিলেন।

মোঃ সাহাবুদ্দীন সাইফ / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

পোস্ট টি সম্পর্কে আপনার মতামত জানানঃ