অন্যর ‘স্ত্রীর’ যৌতুক মামলায় ফাঁসলেন আল জুবায়ের

0
97
0 Shares

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার ধুনটে অন্যর ‘স্ত্রীর’ যৌতুক মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন টিএম (৪৩) নামে বে-সরকারী কোম্পানীর এক কর্মকর্তা। তিনি উপজেলার নসরতপুর গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, আল জুবায়ের গাজিপুর জেলা শহরে বেসরকারী কোম্পানী শরীফ মেলামাইন এ জোনাল ম্যানেজার পদে কর্মরত। তার শিক্ষা সনদের ফটোকপি কৌশলে হাতিয়ে নেয় নসরতপুর গ্রামের মৃত তাহের মন্ডলের ছেলে জুয়েল মাহমুদ (৩৫)।

আল জুবায়েরের সেই শিক্ষা সনদের ফটোকপি দিয়ে জুয়েল মাহমুদ গাজিপুর এলাকায় পোশাক কারখানায় চাকরী নেয়। এই সুবাদে একই কারখানায় কর্মরত আলমিনা খাতুন নামে মেয়ের সাথে জুয়েল মাহমুদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আলমিনা খাতুন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের মেয়ে। গত ২০১৫ সালের ৮ই নভেম্বর জুয়েল মাহমুদ নিজের নাম গোপন করে শিক্ষা সনদ অনুযায়ী আল জুবা য়েরের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে দুই লাখ টাকা রেজিষ্ট্রি কাবিনামায় আলমিনাকে

বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে। বিবাহের প্রায় তিন বছর পর জুয়েল মাহমুদ স্ত্রী আলমিনাকে ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়। আলমিনা তখন বিভিন্ন ভাবে খোজাঁ খুজি করে তাকে না পেয়ে ২০১৯ সালের ৬ই অক্টোবর কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবনালে কাবিননামায় লিখিত নাম অনুসারে আল জুবায়েরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা পেয়ে আল জুবায়ের প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে আল জুবায়ের জানতে পায়, জুয়েল মাহমুদ তার শিক্ষা সনদের ফটোকপি কৌশলে হাতিয়ে নেয়

এবং সেই নাম ব্যবহার করে আলমিনাকে বিয়ে করেছেন। বর্তমানে আল জুবায়ের আদালত থেকে জামিন নিয়ে ছেন। কিন্তু প্রতারক জুয়েল মাহমুদ আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। জুয়েল মাহমুদের মা মরিয়ম বেগম এ প্রতিবেদক-কে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ জুয়েল মাহমুদ আমার খোঁজখবর রাখে না। তবে আল জুবায়েরের নাম ব্যবহার করে জুয়েল মাহমুদ যে প্রতারণা করেছে এ ধরনের অপকর্মের জন্য আমি আমার ছেলে জুয়েল মাহ মুদের কঠিন শাস্তি চাই। টিএম আল জুবায়ের এ প্রতিবেদক-কে বলেন,

জুয়েল মাহমুদের প্রতারনার শিকার হয়ে আমার মানসম্মান ক্ষুর্ণ হয়েছে ও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি। এই প্রতারণার ঘটনায় জুয়েল মাহমুদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি গ্রহন করেছি। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা এ প্রতি বেদক কে-বলেন, আল জুবায়েরের জিডি তদন্ত করে সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। জিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী জুয়েল মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে। 

জিএম মিজান / দৈনিক সংবাদপত্র 

0 Shares

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here